× UCB Sticker Card
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম (কুমিল্লা)

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম (কুমিল্লা)

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘আজগরা হাজি আলতাফ আলী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ’Ñ এ বর্তমানে তীব্র আবাসন ও ক্লাসরুম সংকট বিরাজ করছে। যুগের পর যুগ সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা জরাজীর্ণ মূল ভবনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও মৌলিক নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। খসে পড়ছে দেওয়াল ও ছাদের পলেস্তারা। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং তদারকির চরম উদাসীনতায় বিদ্যাপীঠের ভবনগুলো এখন কঙ্কালসার ও ভূতুড়ে রূপ ধারণ করেছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে সার্বক্ষণিক আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ভবনগুলোর দেয়ালে শ্যাওলা জমে দীর্ঘদিনের অযতেœর ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছাদের পলেস্তারা ও ইট-সুরকি খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেক জায়গায় ভবনের মূল ফাটল বেয়ে লতাপাতা ও পরগাছা গজিয়ে উঠেছে। ভাঙা জানালা, ধুলোবালি জমে থাকা পরিত্যক্ত ক্লাসরুম এবং ভাঙচুর হওয়া আসবাবপত্র যেন এক ভূতুড়ে আবহের সৃষ্টি করেছে। ভবনের কাঠামোগত অবস্থা এতটাই নাজুক যে, সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে ক্লাসরুমে পানি পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো কক্ষ স্যাঁতসেঁতে ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এমন এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই শিক্ষকরা নিরুপায় হয়ে ক্লাস নিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীরাও জীবন হাতে নিয়ে পাঠ গ্রহণ করছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় ও কলেজ শাখা মিলিয়ে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১১ জন। এর বিপরীতে পাঠদানের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ৩৪ জন এবং কর্মচারী কর্মরত আছেন ৮ জন। প্রতি বছর এই অঞ্চলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়লেও, সেই অনুপাতে বাড়েনি ক্লাসরুম বা ভবনের সংখ্যা। প্রয়োজনের তুলনায় কক্ষের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় এক একটি ছোট রুমে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। ক্লাসরুম সংকটের তীব্রতায় কর্তৃপক্ষ অনেক সময় বাধ্য হয়ে একাধিক সেকশনকে একত্রে বসিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন, যার ফলে পড়াশোনার স্বাভাবিক মনোযোগ ও শিক্ষার গুণগত পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।

সন্তানদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠিয়ে সবসময় চরম দুশ্চিন্তায় থাকেন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাই শিক্ষা অর্জনের জন্য, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরতে পাঠাই না। দীর্ঘদিন ধরে ভবনের এই জরাজীর্ণ অবস্থা হলেও এটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি।’

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলে, ‘আমরা প্রতিদিন মনে এক অজানা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাসে আসি। পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে মাথার ওপরের ছাদের দিকেই বেশি নজর রাখতে হয়, কখন যেন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। একটু বৃষ্টি হলেই বই-খাতা ভিজে যায়, ক্লাসরুমে পানি জমে যায়। আমরা অবিলম্বে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি এবং একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করার অধিকার চাই।’

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসেন ভবনের করুণ ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৬৭ সালে স্থাপিত এই ঐতিহাসিক বিদ্যালয়ের বর্তমান মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। নির্মাণের পর থেকে অদ্যাবধি চার দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এই ভবনের আর কোনো বড় ধরনের মেরামত বা সংস্কার কাজ করা হয়নি। বহু বছরের পুরোনো ও জীর্ণ হওয়ায় এটি আসলে অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণার উপযোগী হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ক্লাসরুম সংকট এবং ভবনের এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নার্গিস সুলতানা দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ অথবা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) ইতোমধ্যে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর একটি স্থায়ী সমাধান হবে।’

স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন সচল রাখতে এবং যেকোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে একটি আধুনিক ও নিরাপদ বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!