× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বজলুর রহমান, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

বজলুর রহমান, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়ায় পৌর এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্র দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, কৃষি কার্যক্রমসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর পৌর এলাকায় নিয়মিত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কোথাও কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ আসার পর আবার চলে যাচ্ছে, আবার কোনো কোনো এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে।

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অসহনীয় গরমে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরাও। স্থানীয় ভ্যানচালক রফিক বলেন, ‘রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। আগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো, এখন ৩০০ টাকাও হয় না। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

এদিকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা দুর্ভোগে রয়েছেন। গরমে রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খবির মিয়া বলেন, ‘সুস্থ হতে হাসপাতালে এসেছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ মানুষের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’

শিবচর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকাভিত্তিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

শিবচর পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অভিলাষ চন্দ্র পাল বলেন, ‘শিবচরে বিদ্যুতের চাহিদা ৩৫ মেগাওয়াট হলেও আমরা পাচ্ছি ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। জনভোগান্তি কমাতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী এই লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!