ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

স্বেচ্ছাশ্রমে গোদা ও কাটাখালী খালের কচুরিপানা পরিষ্কার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৬:৩৮ এএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া এলাকায় দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গোদার খাল ও কাটাখালী খালের কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি কচুরিপানায় ভরাট হয়ে থাকায় জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে সেচ ও চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খালের পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি করেছে।

এলাকাবাসী জানান, খাল পরিষ্কারের জন্য লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও সরকারি ব্যবস্থা না আসায় স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে গত শনিবার থেকে কচুরিপানা অপসারণ শুরু করেন।

খাল দুটি স্থানীয় কৃষি, পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিনের অবহেলায় এগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা সোবাহান মল্লিক, মকবুল সিকদার, শাহ আলম হাওলাদার ও আলকাস সিকদার বলেন, এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে দুইটি খাল সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হবে।

স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্যোগী ইঞ্জিনিয়ার কামাল হোসেন বলেন, খাল দুটি পরিষ্কার হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরবে, কৃষিকাজে সুবিধা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি খালগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থায়ীভাবে নাব্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি সহায়তা পেলে এই উদ্যোগ আরও টেকসই হবে এবং এলাকার কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।