ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ বলেছেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট ৩৩০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে ১৪০ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় সীমান্তবর্তী জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি জানান, উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন সরাইলের আওতাধীন ময়মনসিংহ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও কুমিল্লা সেক্টর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নসমূহ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আলোচ্য সময়ে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৩০৯ কোটি ২১ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয় এবং ৩৭ জন আসামিকে আটক করা হয়। এ ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ১০২ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ সেক্টর এককভাবে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করে একজন আসামিকে আটক করেছে। একই সঙ্গে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ২৮ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন আসামিসহ একটি পাইপগানও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের তথ্য পাওয়া মাত্র আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে পরিচালিত অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৪ ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১৫টি অবৈধ অস্ত্র ও ১০৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপদ থাকলে দেশ নিরাপদ থাকবে। ভবিষ্যতেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের কল্যাণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে।

