বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকাসেতুসংলগ্ন সুগন্ধা নদীতীরে গড়ে ওঠা টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্লান্ট’ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও শিল্পবর্জ্যে নদী ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এক সপ্তাহের মধ্যে কারখানাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ আদালতে রিট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
গত বুধবার বেলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস হাসানুল বান্না পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশাল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ১০ কর্মকর্তার কাছে ‘নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, সুগন্ধা নদীতীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পায়রা রিসাইক্লিং প্লান্ট পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এর একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারখানাটির কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান খোকন বলেন, প্রায় চার বছর আগে বাকেরগঞ্জের এক ব্যক্তি কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে কারখানাটি স্থাপন করেন। শুরুতে এলাকাবাসী এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। কারখানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
অন্যদিকে কারখানার মালিক মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, কারখানায় সরাসরি প্রায় ৫০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং টায়ার সংগ্রহসহ বিভিন্ন কাজে আরও শতাধিক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।
তবে বেলার বক্তব্য, এ ধরনের দূষণকারী শিল্প-কারখানা দীর্ঘ মেয়াদে সুগন্ধা নদীর জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন বলেন, সাত দিনের মধ্যে কারখানাটি বন্ধের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বেলার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।
সুগন্ধা নদীর তীরের এই শিল্প-কারখানাকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠেছে, কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীর স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হতে পারে।

