শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ অর্জনকারী দুই কৃতী বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. জেড এ করিম ও প্রফেসর ড. এম এ রহিমকে সংবর্ধনা দিয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবন এবং নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক ও প্রথম নারী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম। এ ছাড়া ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য দুই স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পরে রেজিস্ট্রার তাদের দীর্ঘ কর্মজীবন, গবেষণা এবং জাতীয় পর্যায়ে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ বিভাগে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম এ রহিম তার বক্তব্যে গবেষণায় নিষ্ঠা, ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন গবেষকের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে অধ্যবসায়। নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী গবেষণার বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (বিএএস) প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড এ করিম বলেন, জীবনে নিয়মানুবর্তিতার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণা যুক্ত হচ্ছে। সেই জ্ঞানকে দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণাকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই বিজ্ঞানীর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত। দেশের জন্য তাদের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের আদর্শ, অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের গবেষণাকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

