গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেগুনহাটি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকায় পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাসহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত ১ হাজার শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া রাস্তার একপাশে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, যার ফলে স্থানীয়দের বসতবাড়ি ডুবে যাওয়াসহ ফসলি জমি ও শত শত গাছপালা মরে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় শত বছরের পুরোনো গাজীপুর-রাণীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে যুক্ত বেগুনহাটি-খিলগাঁও সড়কটি স্থানীয়দের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এলজিইডির অধীনে ১২ ফুট প্রশস্ত ও সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির পাকাকরণের জন্য এক বছর আগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা এই কাজের ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই নানা জটিলতায় তা থমকে আছে।
সড়কটির শুরুর দিকে একটি কালভার্টের নিচের অংশের জমি এক শিক্ষক মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে সড়কের বেশ কিছু অংশ তলিয়ে যাওয়ায় জনসাধারণের চলাচল ও পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রোগীদের হাসপাতালে নিতে এবং কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় খিলগাঁও বিকে দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার মো. লোকমান হোসেন জানান, যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় অনেক লিচু, আম ও কলাসহ নানা জাতের গাছ মরে যাচ্ছে এবং পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা অনতিবিলম্বে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মনিরুদ্দিন খন্দকার বলেন, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বেগুনহাটি ফাজিল মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান এম এ ওহাব খান খোকা জানান, কালভার্ট নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারিত থাকলেও কিছু স্থানীয় ব্যক্তি কাজে বাধা সৃষ্টি করায় তিনি কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত কাজ শুরু করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঠিকাদার প্রথম থেকেই কাজ শুরু করতে দেরি করেছেন। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করলে বর্ষার আগেই মানুষ এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেত। কালভার্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। শীঘ্রই নির্মাণকাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন