যশোরে জাল সনদে চাকরির মামলায় আত্মসমর্পণকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এই মামলার অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামি ইদ্রিস আলী ঝিকরগাছা উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে এবং শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বিপিএড)।
মামলার অপর তিন আসামি হলেনÑ একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সহকারী শিক্ষিকা (কৃষি) সালেহা খাতুন এবং কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু। বৃহস্পতিবার মামলার ধার্য দিনে শিক্ষক ইদ্রিস আলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথিপত্র ও আইনজীবীর তথ্যমতে, শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন অভিযুক্তরা। ২০১৫ সালে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের সনদে জালিয়াতি ধরতে পারেন এবং আদালতে মামলা করেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর দীর্ঘ সময় আসামি টিংকু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মামলা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করেছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বাদী মামলাটি পুনরায় সক্রিয় করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ যশোরের এসআই বখতিয়ার রহমান আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তে ওই তিন শিক্ষকের সনদ জালিয়াতি এবং সাবেক চেয়ারম্যান টিংকুর সহযোগিতার সত্যতা প্রমাণিত হয়। প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন