× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ডালিম হোসাইন, সোনারগাঁ

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:২৪ এএম

১৪ কিলোমিটার যেন ‘মরণফাঁদ’

ডালিম হোসাইন, সোনারগাঁ

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০২:২৪ এএম

১৪ কিলোমিটার যেন ‘মরণফাঁদ’

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ও অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশ এখন কার্যত ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে মহাসড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটারজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটিতে গাড়ি আটকে গেলে ছিনতাইয়ের ভয়ও বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচপুর সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, লাঙ্গলবন্দ, সোনাখালী, দড়িকান্দি, টিপুর্দী, হাবিবপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা হয়ে মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। সড়কের উভয় পাশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় চালকদের পক্ষে গর্তের গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ক্ষতি।

শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী রাসেল বলেন, দিনের আলোয় কোনোভাবে গর্ত এড়িয়ে চলা সম্ভব হলেও রাতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রায়ই গাড়ির চাকা গর্তে আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় যানবাহনের যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। দ্রুত কার্যকর সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

প্রাইভেট কারের চালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘একবার চাকা গর্তে পড়লে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে যায়। মহাসড়ক যদি এভাবে গর্তে ভরে থাকে, তাহলে নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব নয়। এটি এখন আর মহাসড়ক নয়, যেন একটি মরণফাঁদ।’

পরিবহনচালক ইব্রাহিম মিয়ার অভিযোগ, মহাসড়কের এই অংশে প্রতি বছরই দায়সারাভাবে সংস্কারকাজ করা হয়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে কার্পেটিং উঠে গিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তিনি বলেন, ‘এলাকাটি মহাসড়কের একটি ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট। রাতে গাড়ি বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে গেলে ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকতে হয়।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে মহাসড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের ঘাস ও ঝোপঝাড়ের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত বাড়ছে। তিনি জানান, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই মহাসড়কটি ঝুঁকিমুক্ত করে যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীদের দাবি, প্রতি বছর সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!