ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

রোগীর ভর্তি টিকিটের ফটোকপি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে

বিল্লাল হোসেন, যশোর
প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৭:৪২ এএম
রোগী

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের ভর্তি টিকিট চলে যাচ্ছে ফিজিওথেরাপি সেন্টারে। অভিযোগ উঠছে, ফিজিওথেরাপি বাণিজ্য জমজমাট করতে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে আতাত করে এই অনিয়ম করা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে টিকিটের ফটোকপি বাইরে চলে যাওয়ায় রোগীর গোপনীয়তা ফাঁস হচ্ছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন মাগুরার শালিখা উপজেলার সাহেব আলীর স্ত্রী শাকিলা (৫৫)।  ২৩ আগস্ট চক্রের সদস্যরা তার ভর্তি টিকিটের ফটোকপি সরবরাহ করেন হাসপাতালের সামনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সেবা ফিজিওথেরাপি সেন্টারে। একই দিন আরেক রোগী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ইছাখালি গ্রামের অনিক কুমারের স্ত্রী কনিকা সাহার (৮৫) ভর্তি টিকিটের ফটোকপি সেখানে পাঠানো হয়। পরে টিকিটের ফটোকপি হাতে রোগীর ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য আসেন ফিজিওথেরাপি সেন্টারের কর্মীরা। 

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের ফিজিওথেরাপি করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। তারা সরকারি হাসপাতালকে পূঁজি করে রীতিমতো ব্যবসার ফাঁদ পেতেছিল। এককভাবে বাণিজ্য করতে একাধিক ফিজিওথেরাপি সেন্টারে কর্মীরা পেশিশক্তি প্রয়োগও করছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। নির্দেশ অমান্য করে ফিজিওথেরাপি কর্মীরা ওয়ার্ডে গেলেই পুলিশকে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছিল। এরপর তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

অভিযোগ উঠেছে, কয়েকদিন পার হতেই হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে আতাত করে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের কর্মীরা। রোগী প্রতি তাদের কমিশনও দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করা হয়। এরপর থেকে চক্রের সদস্যরা রোগীর ভর্তি টিকিট ফিজিওথেরাপি সেন্টারে পৌঁছে দিচ্ছে। টিকিটের ফটোকপি নিয়ে কর্মীরা ওয়ার্ডে এসে অবাধে রোগীদের থেরাপি দিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে রোগীর ভর্তি টিকিট ফিজিওথেরাপি সেন্টারে সরবরাহের বিষয়টি অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, অনেক রোগী ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বিবরণ লেখা থাকে টিকিটে। এই টিকিট অচেনা মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে। ফলে রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা হয় না। রোগীদের গোপনীয়তার বিষয়টি অবশ্যই রক্ষা করা উচিত।

এই বিষয়ে সেবা ফিজিওথেরাপি সেন্টারের মালিক তানজিলা জানান, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীর ভর্তি টিকিটের ফটোকপি নেওয়াটা ভুল হয়েছে। না বুঝতে পেরে এমনটা করেছি। এখন বুঝতে পারছি টিকিটের ফটোকপি নেওয়া অনিয়ম।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএরমও বজলুর রশিদ টুলু জানান, ভর্তি রোগীদের টিকিটের ফটোকপি নেওয়ার বিষয়টা জানার পর কর্তৃপক্ষ ফিজিওথেরাপি সেন্টারের কর্মীদের হাসপাতালে ঢুকতে নিষেধ করেছে। নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।