টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় সুপার ওভারে মহানাটকীয় জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের আহমেদাবাদে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা দল। জবাবে সব উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৮৭ রান করে আফগানরাও। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৭ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে এক উইকেট হারিয়ে ঠিক ১৭ রান করে প্রোটিয়ারাও। এবার ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে। এবার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা উইকেটে ২৩ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ১ উইকেট হারিয়ে ১৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি আফগানরা। ফলে অবিস্মরণীয় লড়াইয়ে দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে ৪ রানে হারিয়ে জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা ম্যাচ তো বটেই, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা ম্যাচ বলে দেওয়ায়ও ঝুঁকি খুব একটা নেই।
রান তাড়ায় রাহমানউল্লাহ গুরবাজ উপহার দেন ৭ ছক্কায় ৪২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস। পরে শেষ দিকে রশিদ খান ও নুর আহমাদের ক্যামিওতে জয়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। কিন্তু শেষ ওভারের স্রেফ মিলিমিটারের জন্য শেষ ব্যাটসম্যানের রান আউটে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ১৮৭ রানেই। মূল ম্যাচের সেরা বোলার লুঙ্গি এনগিডিকে সুপার ওভারে এলোমেলো করে আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের ১ ছক্কা ও ২ চারে আফগানরা তোলে ১৬ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার সুপার ওভারে ফজলহক ফারুকির প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন ডেভিড মিলার, পরের বলে ছক্কা মারেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। কিন্তু আউট হয়ে যান তিনি পরের বলেই। নতুন ব্যাটসম্যান ট্রিস্টান স্টাবস প্রথম বলে চার মারলেও পরের বলে পারেননি রান নিতে। শেষ বলে প্রয়োজন পড়ে ৭ রানের। এবার ফুলটস পেয়ে ছক্কা মেরে দেন স্টাবস। ম্যাচ আবার ‘টাই’। দ্বিতীয় সুপার ওভারে ওমারজাইকে আবার ছক্কা মেরেই শুরু করেন স্টাবস। পরের দুই বলে আসে ৩ রান। এরপর টানা ২টি ছক্কা মেরে দেন মিলার। শেষ বলের ২ রানসহ ওভার থেকে আসে ২৩ রান। সুপার ওভারে ২৪ রান তাড়ায় জয় অসম্ভবের কাছাকাছি। কেশাভ মহারাজের বোলিংয়ে প্রথম বলে রান নিতে ব্যর্থ মোহাম্মাদ নবী। পরের বলেই আউট দেড়শতম ম্যাচ খেলতে নামা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মনে হচ্ছিল, নাটকের আপাতত শেষ। কিন্তু কে জানত, এই ম্যাচে শেষের আগে কিছুই শেষ নয়! ৪ বলে যখন প্রয়াজন ২৪ রান, টানা ৩টি বিশাল ছক্কা মেরে ম্যাচকে আবার অবিশ্বাস্য জায়গায় নিয়ে গেলেন গুরবাজ। শেষ বলে প্রয়োজন আরেকটি ছক্কা। স্টাম্পের বাইরে বল করার চেষ্টায় ওয়াইড করে বসলেন মহারাজ। প্রয়োজন তখন ১ বলে ৫ রান, চার মারলে ম্যাচ আবার টাই। তবে পরের বলটি ঠিক জায়গায় রাখতে পারলেন মহারাজ।
অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের ফুল লেংথ বলে পয়েন্টে ধরা পড়ে গেলেন গুরবাজ। উল্লাসে মেতে উঠল প্রোটিয়ারা। মূল ম্যাচটি যে উত্তেজনায় শেষ হয়েছিল, সেটি তখন যেন কোন সুদূরের ব্যাপার! টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা তৃতীয় ওভারে হারায় অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে (৮ বলে ৫)। প্রথম তিন ওভারে ১২ রান তোলা দল পাওয়ার প্লেতে পরের তিন ওভারে ৩১ রান তোলে ডি কক ও রিকেলটনের ব্যাটে। পাওয়ার প্লে শেষে দুজনের ব্যাট উত্তাল হয়ে ওঠে আরও। রান বাড়তে থাকে দ্রুততায়।
নুর আহমাদের ১ ওভারে দুজনের ২টি ছক্কা ও ২ চারে ২৩ রানে ১০ ওভার শেষে দলের রান পৌঁছে যায় শতরানের দুয়ারে। আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারে ছোবল দেওয়া মুজিব উর রহমান এদিন শুরুতে ভালো করেননি, পাত্তা পাননি পরেও। একাদশ ওভারে তাকে চার মেরে ডি কক ফিফটিতে পা রাখেন ৩৪ বলে। ওই ওভারেই ছক্কায় রিকেলটনের ফিফটি আসে স্রেফ ২৩ বলে। জুটির শতরান হয়ে যায় ৫২ বলেই।

