২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফিফা। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে স্টেডিয়াম নীতিমালায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর ফলে দর্শকদের স্টেডিয়ামের ভেতরেই বোতলজাত পানি কিনতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক গত বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
গত মাস পর্যন্ত ফিফার স্টেডিয়াম-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আচরণবিধিতে উল্লেখ ছিল, দর্শকেরা সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে নতুন নির্দেশনায় সেই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
ফিফার হালনাগাদ আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামের ভেতরে আনা যাবে না। এ বিষয়ে এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের কয়েকটি ভেন্যুতে আগে থেকেই বাইরের পানির বোতল বহনে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলোয়াড়, রেফারি, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দুর্ঘটনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ফিফা আরও জানায়, টুর্নামেন্টের সব স্টেডিয়ামে একই নীতি কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির যন্ত্র, ফ্যান, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং কুলিং টেন্ট রাখা হবে। স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি এমন মূল্যে বিক্রি করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট ভেন্যুগুলোয় আয়োজিত অন্যান্য ইভেন্টের পানির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে শুরু হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে তীব্র তাপপ্রবাহে দর্শকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মধ্যেই ফিফা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করল।
সম্প্রতি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ সংস্থার এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে অন্তত ২৬টি ম্যাচ এমন আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে ‘ওয়েট বাল্ব গ্লোব টেম্পারেচার’ (ডব্লিউবিজিটি) ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে। ডব্লিউবিজিটি হলো তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি এবং সূর্যালোকের তীব্রতার ভিত্তিতে মানবদেহে তাপজনিত চাপ নির্ণয়ের একটি স্বীকৃত পরিমাপক।
উল্লেখ্য, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও দর্শকরা তীব্র গরমের অভিযোগ করেছিলেন। সে সময়ও স্টেডিয়ামের ভেতরে পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

