কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ভাংকুভার স্টেডিয়াম গতকাল শুক্রবার সাক্ষী হয়েছে অসংখ্য ঘটনার। এর মধ্যে অন্যতম কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের পা ভেঙে দেওয়া, দুই লাল কার্ড দেখে কাতারের ৯ জনের দলে পরিণত হওয়া এবং গোলবন্যায় ভাসা কাতারের। ভয়ংকর স্মরণীয় এই ম্যাচে জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক এবং সাইল লারিনের গোলের সুবাদে কাতারকে ৬Ñ০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে কানাডা।
গ্রুপ ‘বি’র এই ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে জেসি মার্শের শিষ্যরা। ম্যাচের ১৬ মিনিটে লারিনের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। এরপর ২৯ মিনিটে অসাধারণ এক ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। ম্যাচের ৩২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় কাতার। তাজন বুকানানকে শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফাউল করায় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখলেও ভিএআরের হস্তক্ষেপে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার হোমাম এল আমিন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আরও চাপে পড়ে ২০২২ বিশ^কাপের আয়োজক কাতার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লারিনের হেড গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে নিজের দ্বিতীয় গোল করে কানাডাকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ডেভিড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের সবচেয়ে দুঃখজনক ও ভয়ংকর মুহূর্তটি আসে। ৫১ মিনিটে কাতারের আসিম মাদিবোর শক্ত ট্যাকলে গুরুতরভাবে আহত হন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে। ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মাঠে থাকা খেলোয়াড় ও দর্শক সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান। অক্সিজেন দিয়ে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। এ সময় প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআরের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মাদিবোকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার।
ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ জানান, কোনেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের বেঞ্চের ঠিক সামনে ঘটেছে। হাড় ভাঙার শব্দ সবাই শুনতে পেয়েছিল। এটা খুবই কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা। ইসমায়েল আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।’ তিনি আরও জানান, লাল কার্ড পাওয়ার পর মাদিবো ড্রেসিংরুমে গিয়ে কোনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে এমন ঘটনার পরও কাতারের বেঞ্চের প্রতিক্রিয়া তাকে বিস্মিত করেছে।
কোনের পরিবর্তে নামা নাথান সালিবা ৬৪ মিনিটে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন। এ সময় গোল উদযাপনে তিনি আহত সতীর্থ কোনের জার্সি তুলে ধরেন। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মোহাম্মদ আল মান্নাইয়ের আত্মঘাতী গোলে আরও বিপাকে পড়ে কাতার। ম্যাচে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড। নিশ্চিত হয়ে যায় কানাডার ৬-০ গোলের বিশাল জয়।
এই জয়ের ফলে নকআউট পর্বে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল কানাডা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হার এড়াতে পারলেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে তাদের সামনে। সে ক্ষেত্রে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচটিও তারা খেলবে নিজেদের সমর্থকদের সামনে।
ম্যাচটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, কানাডা ঠিক যতটা শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়েছে, ততটাই হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল কাতারের। পুরো ম্যাচে কানাডার গোলবার লক্ষ্য করে মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছে কাতার এবং এর একটিও লক্ষ্যে ছিল না। পক্ষান্তরে কানাডার জন্য ইতিবাচক দিক ছিল দলের আত্মবিশ্বাস। জুভেন্টাসে কঠিন সময় পার করা জোনাথন ডেভিডের জন্য এই হ্যাটট্রিক হতে পারে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ। সতীর্থ লারিনের সঙ্গে তার জুটি প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এদিন তাজন বুকানান গোল না পেলেও ডান প্রান্তে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবং ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন। এখন প্রশ্ন একটাইÑ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেলে কি কানাডা নকআউট পর্বের সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে? বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

