ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

চাকরি হারালেন টিভি উপস্থাপিকা

মেসির বাবার ভুয়া মৃত্যুর খবর

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০২:০২ এএম

আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ভুল সংবাদ পরিবেশন করে চাকরি হারিয়েছেন দেশটির টিভি উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনা। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে। মাঠে গোল করার পর মেসিকে কিছুটা আবেগঘন অবস্থায় দেখেই ওই উপস্থাপিকা লাইভে দাবি করে বসেন যে, মেসির বাবা মারা গেছেন এবং এই শোকের কারণেই তিনি মাঠে কেঁদেছেন।

টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত সেই অনুষ্ঠানে ফ্লোরেন্সিয়া পেনা বলেন, ‘আমি খারাপ খবর দিতে চাই না, কিন্তু মেসির বাবা মারা গেছেন। বিশ্বকাপের মাঝেই এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে এখনই বিশ্বকাপ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

লাইভ অনুষ্ঠানে উপস্থাপিকার এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, হোর্হে মেসি কিছুটা অসুস্থ হলেও জীবিত আছেন এবং তার মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া। একই সঙ্গে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া লাইভ টিভিতে এমন স্পর্শকাতর খবর প্রচার করায় মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

এ ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ফ্লোরেন্সিয়া পেনা। পরে তিনি লুজু টিভির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘মেসি পরিবারের কাছে এই ভয়াবহ ভুলের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। এমন একটি মিথ্যা ও কষ্টদায়ক সংবাদের অংশ হওয়ার জন্য আমি গভীরভাবে লজ্জিত।’ নিজের সাফাইতে তিনি আরও দাবি করেন, লাইভ শো চলাকালে প্রযোজনা দল থেকে তাকে তথ্যটি সম্পূর্ণ যাচাইকৃত বলে জানানো হয়েছিল এবং তিনি তাদের তথ্যের ওপরই ভরসা করেছিলেন। তবে নিজের পেশাদারিত্বের ভুলের দায় স্বীকার করে নিয়ে তিনি চ্যানেল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে লুজু টিভি কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘পেশাদারিত্ব বিরোধী’ বলে উল্লেখ করেছে। চ্যানেলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তীব্রতা বিবেচনা করে এই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের সঙ্গে জড়িত মূল দায়ীদের অবিলম্বে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।