শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই শেষে চলমান বিশ^কাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে জয়ী হলো স্বাগতিক কানাডা। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে জেসি অ্যালান মার্শের শিষ্যরা। ম্যাচের ৯২তম মিনিটে স্টিভেন ইউস্টাকিওর একমাত্র গোলটিই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান।
পুরো ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ত্রাতা ছিলেন গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস। ৩৪ বছর বয়সি এই গোলকিপার যেন গোলপোস্টের নিচে এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ৯০ মিনিট পর্যন্ত অন্তত ছয়বার নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি। তবে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আসা ইউস্টাকিওর শটটি তার সব বীরত্বকে ম্লান করে দেয়।
২২তম মিনিট কানাডার কর্নেলিয়াস হেড করার দারুণ সুযোগ পেলেও বল সরাসরি উইলিয়ামসের গ্লাভসে জমা পড়ে। ৩৬তম মিনিট দক্ষিণ আফ্রিকার এমবোকাজির ভুলে কানাডা কাউন্টার অ্যাটাকে গেলেও সালাবা শেষ মুহূর্তে সঠিক পাস দিতে ব্যর্থ হন। ৪৩তম মিনিট কর্নার থেকে মোমবিতোর হেডার এবং ফিরতি শটে কানাডা গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল, কিন্তু উইলিয়ামসের ক্ষিপ্রতায় সে-যাত্রায় রক্ষা পায় প্রোটিয়ারা।
গোলশূন্য বিরতির পর ৬৫তম মিনিটে জোনাথন ডেভিডের শট অবিশ^াস্যভাবে রুখে দেন উইলিয়ামস। এরপর দুই দল গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও নির্ধারিত সময়ে জালের দেখা পায়নি। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। জনস্টনের বাড়ানো ক্রস বক্সের মাথায় অরক্ষিত থাকা ইউস্টাকিও বুক দিয়ে রিসিভ করে পোস্টের একদম নিচের কোনায় শট নেন। উইলিয়ামসের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বল জড়িয়ে যায় জালে।
পুরো ম্যাচে কানাডা দক্ষিণ আফ্রিকার গোলমুখে ১২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টিই ছিল অন টার্গেট। বল পজিশনে দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, সুযোগ তৈরির দিক থেকে কানাডাই ছিল এগিয়ে।
৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারসহ মোট তিনবার বিশ^কাপ খেলছে কানাডা। আগের দুবার গ্রুপপর্বেই আটকা পড়েছিল তাদের স্বপ্ন। এবার গ্রুপপর্ব পেরিয়ে শেষ বত্রিশের বাধাও পেরিয়ে গেছে উত্তর আমেরিকার দলটি। এখন শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে। ম্যাচটি আগামী ৪ জুলাই হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হবে।

