ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে তার জন্মস্থান ঝালকাঠির নলছিটিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একই সঙ্গে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নলছিটিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর নলছিটি পৌর শহরের খাসমহল এলাকায় তার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা ছুটে আসেন। কান্না, আহাজারি ও শোকাবহ পরিবেশে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার রাতে হাদির পরিবারের সদস্যরা কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা কথা বলেননি।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা কথা বলবেন বলে জানা গেছে।
হাদির হত্যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিবেশী, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীরা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হাদির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন, একাধিক সহপাঠী কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
এদিকে হাদি হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে নলছিটি পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সড়কের ওপর টায়ার ও খড় জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. লিমা বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই। দোষীদের আইনের আওতায় না আনা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ওসমান হাদি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌর শহরের ফেরিঘাট এলাকার মরহুম শরিফ মাওলানা আবদুল হাদির ছেলে। বর্তমানে তার বাসায় অবস্থান করছেন বোন মাছুমা সুলতানা বিন হাদি ও ভগ্নিপতি আমির হোসেন। শোকাহত পরিবারটির পাশে থাকতে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে জড়ো হচ্ছেন।
ওসমান হাদির ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর তাকে পিতার কবরের পাশে শায়িত করা হোক। সে অনুযায়ী নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের হাড়িখালি মুন্সিবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
তবে তাঁর বড় ভগ্নিপতি মাওলানা আমির হোসেন জানান, ওসমান হাদি এখন শুধু একটি এলাকার মানুষ নন, তিনি সারাদেশের মানুষের হাদি। তাই সরকার ও পরিবারের মধ্যে যে সমঝোতায় দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
তিনি আরও জানান, হাদির স্ত্রী ও মা ঢাকায়, ছোট বোন নলছিটির শহরে এবং মেজ ভাই সিঙ্গাপুরে অবস্থান করায় পারিবারিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া যায়নি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নলছিটিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন