হবিগঞ্জ নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লিতে রোববার রাতে এক ‘ডেভিল’কে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে পুলিশ। অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ধৃত ডেভিল জাফর মিয়ার আপন ভাই নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে পুলিশকে আটকে রাখেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে ওসি (তদন্ত)-এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধৃত জাফর মিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে পুলিশ দাবি করছে, আটকের ঘটনাটি সঠিক নয়; কিছু ফেসবুক ভিউ ব্যবসায়ী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়িয়েছে।
জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের পাজ্ঞারাই গ্রামের বিরাম মিয়ার ছেলে জাফর মিয়া স্থানীয় বাজারের একজন টেইলার্স ব্যবসায়ী এবং ওয়ার্ড আওয়ামী কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক। রোববার রাত ৮টার দিকে নবীগঞ্জ থানার এসআই কৌশিকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় জাফর মিয়ার ভাই মোফাশ্বির মিয়া নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে জাফরকে ডেভিল নয় দাবি করেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি পুলিশকে ঘটনাস্থলেই আটকে রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান।
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়ার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আওয়ামী লীগের কর্মী জাফর মিয়াকে ‘ডেভিল হান্ট-ফেজ–২’ অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে জুলাই যোদ্ধা ও নবীগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘মোফাশ্বির মিয়া নামে কোনো ব্যক্তি আমাদের জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আমরা তাকে চিনি না।’
নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, ‘পুলিশকে আটকে রাখার ঘটনাটি সঠিক নয়। কিছু ফেসবুক ভিউ ব্যবসায়ী বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ তাকে ডেভিল হিসেবে আটক করেছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন