আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র-সংক্রান্ত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার পর বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের শুরুতেই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সদ্যপ্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। এরপর আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার মৃত্যুর কারণে বগুড়া-৭ আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রটির আইনি কার্যক্রম স্থগিত ও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে তার দাখিল করা হলফনামা, সম্পদের বিবরণ ও অন্যান্য নথিপত্রে কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ফলে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন কার্যক্রম সমাপ্ত হলেও বিএনপির নির্বাচনি অংশগ্রহণে কোনো সাংবিধানিক বাধা সৃষ্টি হয়নি।
মোরশেদ মিল্টনের পাশাপাশি এই আসনে আরও দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত গোলাম রব্বানী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে শফিকুল ইসলাম। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, উভয় প্রার্থীর দাখিল করা নথিপত্র বিধিসম্মত হওয়ায় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই।
অন্যদিকে নথিপত্রে ত্রুটি থাকায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আনছার আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, তার মনোনয়নপত্রে দলীয় সভাপতির স্বাক্ষর না থাকায় নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৭ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই আসনে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও আবেগের প্রভাব বরাবরই প্রবল ছিল। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনে বিএনপির সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে এই আসনে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলাকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দিনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচারণা শুরু হলে বগুড়া-৭ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন