× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

সরিষার ভালো ফলনের আশা করছেন বগুড়ার প্রান্তিক কৃষকরা

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

সরিষা চাষের মাঠ এবং ফুল ফোটা অবস্থায় সরিষা গাছ। ছবি -  রূপালী বাংলাদেশ

সরিষা চাষের মাঠ এবং ফুল ফোটা অবস্থায় সরিষা গাছ। ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

শীতের সকালের নরম রোদে দুপচাঁচিয়ার মাঠ যেন এক অনন্য সৌন্দর্যের দৃশ্য। দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের হলুদ আভা চোখ জুড়িয়ে দেয়। যে দিকেই তাকানো যায়, শুধু হলুদ আর হলুদ। সরিষার ক্ষেতে ভাসছে মৌমাছির গুঞ্জন, ফুল থেকে মধু আহরণে ব্যস্ত তারা। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়।

চৌমুহনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোজ্যতেলের দাম বেশি থাকলেও গত বছরের তুলনায় চলতি রবি মৌসুমে দুপচাঁচিয়া উপজেলায় সরিষার আবাদ কিছুটা কম হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৪শ ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তার চেয়ে কম জমিতে আবাদ হয়েছিল। বাকি জমিতে আলু চাষ করা হয়। চলতি মৌসুমে অসময়ের বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে সরিষার বীজ বপণ করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক কৃষক আলু চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

তবে ফলনের দিক থেকে আশাবাদী কৃষকরা। প্রচলিত দেশি সরিষার তুলনায় বেশি ফলন হওয়ায় বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বারি-৯, বিনা-১১ ও টরি-৭ জাতের সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। অনেক কৃষক আমন ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে সরিষা আবাদ করছেন এবং এরপর বোরো ধান রোপণ করবেন। ফলে একই জমিতে বছরে তিনবার ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

পশ্চিম লালুকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সরিষা গাছে ইতোমধ্যেই ফুল এসেছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬ থেকে ৭ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব আলোহালী গ্রামের কৃষক সুলতান হোসেন বলেন, তিনি ৫ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৪ থেকে ৫ মণ সরিষা পাওয়ার আশা করছেন।

কৃষক জিল্লুর রহমান জানান, এবার তিনি ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কমপক্ষে ৫ মণ সরিষা উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। অন্যদিকে সরিষার ফলন হলে অল্প সময়ে, কম খরচে এবং তুলনামূলক বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম মিয়া জানান, সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল। সরকারের পক্ষ থেকে এ ফসলে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন বলেন, এ জেলায় সবচেয়ে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে দুপচাঁচিয়ায় সরিষার আবাদ সর্বোচ্চ। সরিষা আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যেহেতু ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে, সে কারণে সরিষার আবাদ বাড়াতে সার ও কীটনাশক সঠিক সময়ে সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের বীজ সময়মতো বিতরণ এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরিষা রোপণ করা হলে মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!