× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১১:০১ এএম

স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাদ্রাসায় নিয়োগের অভিযোগ

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১১:০১ এএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন বরইহাট সিদ্দিকিয়া সিনিয়র (আলিম) মাদ্রাসায় আইসিটি ল্যাব না থাকলেও নীতিমালা লঙ্ঘন করে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নিয়োগ-সংক্রান্ত গভর্নিং বডির সভার রেজল্যুশনে জালিয়াতির মাধ্যমে সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কমিটির একাধিক সদস্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সভাপতি। তারা এলাকাবাসীকে জানিয়ে আসছেন, ডিজির প্রতিনিধির অনুরোধে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ অভিযোগ এনে সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাদ্রাসাটির নিয়োগ-সংক্রান্ত কমিটি ও গভর্নিং বডির ছয় সদস্য যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমান এবং গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান কাশিয়ানীর রাজপাট ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং মুজিবুর রহমান উপজেলা জামায়াতের রুকন।

চলতি মাসে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এমপিও কপি থেকে জানা যায়, ওই মাদ্রাসায় ল্যাব সহকারী এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এ দুটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ যৌথ বিবৃতিতে গভর্নিং বডির সদস্যরা দাবি করেছেন, নিয়োগ কমিটি ও গভর্নিং বডির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তারা এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই অবগত ছিলেন না।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, গবেষণা বা ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই সচল ল্যাব থাকতে হবে।

তবে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই মাদ্রাসায় কোনো সচল ল্যাব নেই। প্রতিষ্ঠানে মাত্র দুটি পুরোনো ল্যাপটপ ব্যবহার করে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এই প্রতিবেদকের হাতে একটি কল রেকর্ড এসেছে, যেখানে অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, আপনারা তো জানেন, আমাদের মাদ্রাসায় কোনো ল্যাব নেই। ডিজির প্রতিনিধির অনুরোধে ল্যাব না থাকা সত্ত্বেও এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তার এই বক্তব্য উল্লেখ করে বিবৃতিতে গভর্নিং বডির সদস্যরা বলেন, মাদ্রাসায় ল্যাব না থাকা সত্ত্বেও এই পদে নিয়োগ দেওয়া স্পষ্টভাবে নীতিমালা লঙ্ঘন।

এদিকে যৌথ বিবৃতিতে অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও করা হয়েছে। এতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি ও নিয়োগ কমিটির সভার রেজল্যুশন প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা এ ধরনের কোনো সভা করেননি।

বরং পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন চালু-সংক্রান্ত কাগজের কথা বলে সাদা কাগজে সদস্যদের স্বাক্ষর নেন। পরে ওই স্বাক্ষরগুলো নিয়োগ অনুমোদনের রেজল্যুশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্বাক্ষর জালিয়াতির শামিল।

অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমান দাবি করেছেন, নিয়োগপ্রাপ্তরা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির সুপারিশপ্রাপ্ত।

এ বিষয়ে প্রতিবেদকের হাতে আসা আরেকটি কল রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, কয়েক দিন আগে যে নিয়োগ হয়েছে, সেখানে ডিজির প্রতিনিধির কিছু দাবি-দাওয়া ছিল। তাদের তখন আমরা পাঁচ-দশ লাখ টাকা দিতে পারলে কোনো সমস্যা হতো না। সেটি দিতে না পারায় এ দুটি নিয়োগ তার প্রতিনিধিদেরই দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের অস্পষ্ট বক্তব্য চরম দুর্নীতিপরায়ণতার ইঙ্গিত দেয়। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তারা মাদ্রাসায় একটি নিয়োগ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

যৌথ বিবৃতিদাতারা মনে করেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গোপনে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিবৃতিতে অভিভাবক সদস্য আবদুল হান্নান মোল্লা, ওলিয়ার সরদার, আবুল কালাম, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. বদিউজ্জামাল, বিদ্যোৎসাহী সদস্য রঞ্জু চৌধুরী, এমেচা বেগম স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন জামায়াতের ইউনিয়ন আমির মাওলানা মাহমুদুর রহমানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!