বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘তিস্তা এ অঞ্চলের অহংকার। কথা দিচ্ছি, তিস্তাকে আবার জীবন দেব। তিস্তা হবে উত্তর অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যেকোনো কিছুর বিনিময় হলেও আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। আমরা বুড়িমারী স্থলবন্দরের উন্নয়ন করব। সড়কপথ ও রেলপথের উন্নয়ন করা হবে।’
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উত্তর অঞ্চল অবহেলিত। এ অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের বীজ রোপণ করা হবে। দীর্ঘদিন এ জাতিকে বিভক্ত করে একদল মতলববাজ ব্যবসা করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন। এটা আমরা বন্ধ করতে চাই। উত্তর অঞ্চলে কৃষিশিল্পের রাজধানী করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদল ভয়ে আছেন। ভয়ের কারণ নেই। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জীবন দেব, তবু আমার মা-বোনদের গায়ে হাত দিতে দেব না। আমরা নারীজাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘কেউ কেউ প্রথমে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ছিলেন না। পরে যখন দেখে অবস্থা খারাপ, তখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। আমরা বসন্তের কোকিল না। আমরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই না। আমরা দেশে আছি, দেশেই থাকব।’
দীর্ঘদিন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ দেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে, এখন বিশ্রামে যাও। এবার আমাদের একটু সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নই, আমরা দেশের উন্নয়ন করব।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘ওরা রাজনীতির নামে দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতি আর রাজনীতি একসঙ্গে চলে না। ওদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব।’
তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতের বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি হ্যাঁ ভোটের বিজয় চাই। হ্যাঁ ভোটের বিজয় মানে জনতার বিজয়। এতে নতুন বাংলাদেশ পাব।’
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও লালমনিরহাট-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। এর আগে জামায়াতের আমির কুড়িগ্রাম থেকে তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে হেলিকপ্টারে আসেন।
শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন না। এবার দুটি ভোট—একটি ‘হ্যাঁ’, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’তে দেবেন, দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন