ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতির অবসান এবং জনগণের জান-মাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের রায়ের মাধ্যমে গঠিত সরকারই ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ভোলা সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কার সরকার মানেই জুলুম, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতির অবসান। চাঁদা আদায়ের নামে হত্যা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের জান-মাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় মানে জনগণের অধিকারকে সাংবিধানিক শক্তিতে রূপ দেওয়া। এই রায় প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনা আর ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছানির্ভর হবে না; প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে। অপরদিকে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিলে দেশ আবারও একক আধিপত্য ও জবাবদিহিহীন শাসনের চক্রে ফিরে যাবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে ভোলাবাসী তার সুফল পায়নি। উন্নয়নের নামে বিভিন্ন খাতে হয়েছে ব্যাপক লুটপাট, অথচ সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও নিরাপত্তা উপেক্ষিতই থেকে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশে ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। জনগণের রায়ে সরকার গঠিত হলে কোনো সরকারই আর খেয়ালখুশিমতো ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কা ক্ষমতায় গেলে ভোলার দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলো ভোলায় দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন করতে পারেনি; বরং বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। ভোলার মানুষ আর প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়ন চায়—আর সেটাই দাঁড়িপাল্লা মার্কার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, ভোলা সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, ভোলা-২ আসনের প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা জাকির হোসাইন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের লড়াই নয়; এটি জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল অধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ও দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন