বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘৫ আগস্ট যাদের জীবন দেওয়ার মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছিল সেই দেশে আমরা আর হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি এবং ধর্ষণের ঘটনা বা এমসি কলেজে মা-বোনের ইজ্জতহানি দেখতে চাই না। পাথর দিয়ে মানুষ মারার দৃশ্যও জনগণ আর দেখতে চায় না।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুরের উত্তর তেমুহুনী শহীদ আফনান চত্বরে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ হবে গোটা দুনিয়ায় ইনসাফের আলোকবর্তিকা। ১৯৭৭ সালে যে কাফেলা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ৫৫ হাজার বর্গমাইলের সেই আলোর দ্রুতিকে ছড়িয়ে দেবে ইসলামী ছাত্রশিবির। তাই কেউ যদি আমাদের ভোটাধিকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসমাজের অধিকার এবং আমাদের ওপর নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ১২ তারিখে আরেকটি জুলাই আন্দোলন শুরু করবে। জুলাই যোদ্ধারা হাজারো শহীদ হয়েছে; তবে লক্ষ প্রাণ দিতে হলেও ছাত্রশিবিরের কাফেলা প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম একদিন আসবে, মায়েরা তাদের সন্তানকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে তুলে দিবে। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর কলেজসহ প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই দৃশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাই আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের নেতৃত্বে। যারা জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।’
এ সময় ড. রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুরের জনপদকে সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত এবং সব ধর্মের মানুষের বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শহর শাখার উদ্যোগে ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর জুলাই চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে উত্তর তেমুহুনী গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা ও শহর ছাত্রশিবিরসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
এতে আরও বক্তব্য দেন শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল হামদু, সাবেক শহর সভাপতি মাহাবুর রহমান প্রমুখ।



