× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

ময়মনসিংহে বিএনপির ৩ আসন হারানোর নেপথ্যে বিদ্রোহী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে এবারই প্রথম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। এর আগে এ জেলায় কখনো এত আসন পায়নি দলটি। তবে দলীয় বিদ্রোহীর কারণে এ জেলার ৩টি আসনে ধরাশায়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এর নেপথ্যে ছিল দলছুট নেতাদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র—এমনটাই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটারদের।

নির্বাচন-পরবর্তী গত কয়েকদিনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের নানা সমীকরণ বিশ্লেষণ করে জেলার বিভিন্ন আসনের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুস সাত্তারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে জেলার সবকটি আসন বিএনপির অনুকূলে রাখার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করা একটি দলছুট মহলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে ৩টি আসন হাতছাড়া হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী ভোট বিশ্লেষণেও এমন চিত্রই উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, পরাজিত আসনগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কমপক্ষে আরও ২টি আসন দলের দখলে আসতে পারত।’

এই অবস্থায় দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দলছুট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে দাবি জানান মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আতিকুল বাশার রুমিত। অন্যথায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্রমতে, জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৮টিতে জয়ী হয়েছে বিএনপি। তবে দলীয় বিদ্রোহীর কারণে বাকি ৩টি আসনে পরাজিত হয়েছে দলটি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনটি পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনটি পেয়েছে খেলাফত মজলিস এবং ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনটি পেয়েছেন নিজ দলের এক বিদ্রোহী প্রার্থী।

ভোটের সমীকরণে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস পেয়েছে ৫৩ হাজার ২২২ ভোট। এই হিসাবে বিএনপির দুই প্রার্থী এক হলে দলের মোট ভোট হতো ২ লাখ ১০ হাজার ১৯১। এতে বিরোধী জোটের সঙ্গে ব্যবধান হতো ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬৯ ভোট, যা সারা দেশে ব্যবধানের দিক থেকে রেকর্ড হতে পারত।

একই চিত্র ময়মনসিংহ-২ আসনেও। এ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৮৭৪ ভোট। এ হিসাবে দুই প্রার্থীর ভোট একত্রে হলে হতো ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২। এতে বিদ্রোহী না থাকলে বিএনপির ব্যবধান দাঁড়াতে পারত ২১ হাজার ১১০ ভোট। এ ছাড়া এ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত অন্য প্রার্থীদের প্রচারণা ছিল গা-ছাড়া বা লোক দেখানো—এমন অভিযোগও করেছেন পরাজিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা।

একইভাবে ময়মনসিংহ-৬ আসনেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী শেরে বাংলা এ কে এম ফজলুল হকের নাতি-জামাতা আকতারুল আলম ফারুক। ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে এ আসনে জয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জি. শামসুদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী) আখতার সুলতানা (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট। এ হিসাবে বিদ্রোহী না থাকলে বিএনপির মোট ভোট হতো ১ লাখ ২ হাজার ৩২৫। তবে এ আসনে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী জসীম উদ্দিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ২৩৪ ভোট। এরপরও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল—এমন দাবি নেতাকর্মীদের।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘দলের বিদ্রোহীরাই ধানের শীষের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, ‘জনগণ যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকেই ভোট দিয়েছে। তবে কোন কারণে আমাদের দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, কোথায় দুর্বলতা ছিল—তা তদন্ত করে সাংগঠনিক প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হবে।’

Link copied!