দৈনিক দিনকাল-এর সম্পাদক ও প্রকাশক আতিকুর রহমান রুমন এবার যুক্ত হলেন রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় বলয়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনটি জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আতিকুর রহমান রুমনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে গ্রেড-২ (অতিরিক্ত সচিব) বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার দায়িত্বকাল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।
রাজনৈতিক ঐতিহ্যের উত্তরসূরি
আতিকুর রহমান রুমনের রাজনৈতিক বোধ ও চেতনার শিকড় বহু প্রজন্ম আগে প্রোথিত। তার প্রমাতামহ রজিব উদ্দিন তরফদার ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং কৃষক-প্রজা অধিকার রক্ষার সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব। জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রজাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য তিনি ‘প্রজাবন্ধু’ উপাধি লাভ করেন। রজিব উদ্দিন তরফদার ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ ও এ কে ফজলুল হক এর ঘনিষ্ঠজন। তিনি কৃষক প্রজা পার্টি থেকে আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তার স্মৃতিকে ধারণ করে শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘প্রজাবাহিনী প্রেস’। এই প্রেস পরিচালনা করতেন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র আবু নছর মোহাম্মদ আলী তরফদার যিনি ছিলেন আতিকুর রহমান রুমনের মাতামহ। তিনি সারিয়াকান্দির নারচী ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘ ২৭ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কৈশরের একটি বড় সময় নানার বাড়িতে কাটানো রুমনের রাজনৈতিক ও জনসেবামুখী চেতনা সেখান থেকেই গড়ে ওঠে বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠরা মনে করেন।
ছাত্রজীবন থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি
স্কুল জীবনেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনে উদ্বুদ্ধ হন এবং পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ যোগ দেন। সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজে অধ্যয়নকালে কলেজ ছাত্র সংসদে নেতৃত্ব দেন। রাজনীতি ও ছাত্রনেতৃত্বের পাশাপাশি সাংবাদিকতার প্রতি আকর্ষণ তাঁকে নিয়ে যায় সংবাদপত্রের জগতে।
সাংবাদিকতার পথচলা
১৯৯৩ সালে বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজ ও আগামীকাল পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন রুমন। ১৯৯৬ সালে তিনি উত্তরাঞ্চলের প্রাচীনতম বগুড়া প্রেসক্লাব এর সদস্যপদ লাভ করেন। পরে পাঠাগার সম্পাদক ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে তিনি দৈনিক দিনকাল এর বগুড়া অফিসে স্টাফ রিপোর্টার ও অফিস প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ২০০০ সালে প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি জাতীয়তাবাদী ধারার পক্ষে লেখালেখি অব্যাহত রাখেন। রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তিনি দৈনিক দিনকাল এর সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন অধ্যায় : প্রশাসনিক দায়িত্বে সাংবাদিক
সংবাদকক্ষের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আতিকুর রহমান রুমনের এই নিয়োগকে অনেকেই একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। মাঠের রাজনীতি, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী পরিসরের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে তাঁর নতুন দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত অগ্রগতি নয়—এটি রাজনৈতিক যোগাযোগ ও বার্তা ব্যবস্থাপনায়ও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
ব্যক্তি ও পরিবার
ব্যক্তিগত জীবনে আতিকুর রহমান রুমন এক কন্যা সন্তানের জনক। পরিবার, রাজনীতি ও সাংবাদিকতার সমন্বিত অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তিনি যুক্ত হলেন রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায়। সংবাদপত্রের পাতায় যিনি দীর্ঘদিন কলম ধরেছেন, তিনিই এখন রাষ্ট্রের শীর্ষ নির্বাহীর বার্তা জনতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে। ইতিহাস, আদর্শ ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে শুরু হলো তাঁর নতুন অধ্যায়।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন