× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

তানভীর ইসলাম কাওছা, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:২১ এএম

বাংলাদেশে এক ভাষার শেষ আশ্রয়—দুই বৃদ্ধা বোন

তানভীর ইসলাম কাওছা, মৌলভীবাজার

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:২১ এএম

ভেরোনিকা কেরকেটা ও তার বোন খ্রিস্টিনা কেরকেটা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ভেরোনিকা কেরকেটা ও তার বোন খ্রিস্টিনা কেরকেটা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশে এমন একটি পুরানো ভাষা আছে যা আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে, আর বর্তমান সময়ে শুধু মাত্র দু’জন বোনের মুখেই টিকে আছে বলে জানানো হয়েছে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্মাছড়া চা বাগানের শ্রমিক ভেরোনিকা কেরকেটা (৮১) ও তার বোন খ্রিস্টিনা কেরকেটা (৭৬)। ভাষা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাদের মৃত্যু হলে চিরতরে হারিয়ে যাবে বাংলাদেশের এই অতি বিপন্ন ভাষাগুলোর একটি।

মৌলভীবাজারের চা বাগানাঞ্চলে খাসিয়া, গারো, মণিপুরী, ত্রিপুরা, খাড়িয়া, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাওঁ, কুর্মী, বুনারাজি, গঞ্জু, পাঙালসহ অন্তত ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজস্ব ভাষায় কথা বলে, লেখে এবং পড়ে। বৈজ্ঞানিক ভাষা সমীক্ষায় খাড়িয়া ভাষাসহ বম, কোল, চাক, শো, খাসি, কোড়া, পাংখুয়া, সৌরা, কোডা, মুন্ডারি, মালতো, কন্দ, খুমি, রেংমিতচা, খিয়াং, লালেং বা পাত্র ও লুসাই ভাষাকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক সময় চা শিল্পাঞ্চলে কর্মরত অসংখ্য খাড়িয়া শ্রমিকের মাতৃভাষা ছিল খাড়িয়া। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ভাষাটির ব্যবহার কমতে কমতে এখন প্রায় বিলুপ্ত। বর্তমানে সাদ্রি-বাংলা, দেশোয়ালি ও খাড়িয়ার মিশ্রণে এক ধরনের ভাষা ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা জানেন কেবল দুই বোন।

বীর তেলেঙ্গা খাড়িয়া ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের উদ্যোক্তা পিওস নানোয়া জানান, ২০১৭ সালে বর্মাছড়া বাগানের উত্তরণ যুব সংঘের মাধ্যমে ভাষাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভেরোনিকা ও খ্রিস্টিনার মাধ্যমে শিশুদের কিছু শিক্ষা দেওয়া হলেও উদ্যোগটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৯৮.২৭ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তবে চাকমা, মারমা, তংচঙ্গ্যা, হাজং, মুরংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করে। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৪১টি শ্রমিক কলোনিতে খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। ২০২০ সালের অনুসন্ধানে প্রায় হাজারখানেক খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর মানুষ শনাক্ত হলেও ভাষাটি জানা কাউকে পাওয়া যায়নি, এই দুই বোন ছাড়া।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাজঘাট ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া বলছেন, দেশের চা বাগানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই আদিবাসী গোষ্ঠীর বিচিত্র ভাষাভাষী মানুষের বাস। তাদের অনেক ভাষা সংরক্ষণ ও চর্চার অভাবে বিপন্ন। খাড়িয়া তার মধ্যে একটি। এটি সংরক্ষণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ আবশ্যক। এ জনগোষ্ঠী সাদ্রিবাংলা, দেশোয়ালি ও মূল খাড়িয়ার সংমিশ্রণে এক ধরনের ভাষায় কথা বলেন। প্রকৃত খাড়িয়া ভাষা দুই বোনের মৃত্যুর পর হারিয়ে যাবে। ভাষাটি রক্ষায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভেরোনিকা কেরকেটা বলেন, ‘পাঁচ বছর আগেও এ দেশে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা খাড়িয়া ভাষায় কথা বলতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরিপূর্ণভাবে খাড়িয়া ভাষা জানেন এমন দুইজন সদস্য হিসেবে শুধু মাত্র আমি ও আমার বোনই জীবিত আছি।’

তাদের মৃত্যুর পর মূল খাড়িয়া ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর আর কোনো সদস্য থাকবেন বলে তার জানা নেই। কারণ আর কেউ খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর এই ভাষাটি জানে না বলে জানান তিনি।

ক্রিস্টিনা কেরকেটা হতাশা নিয়ে জানান, তাদের দুই বোনের মৃত্যুর পর আর খাড়িয়া ভাষায় কথা বলার কেউ থাকবে না। তার দাবি সরকার এ বিষয়ে যেন উদ্যোগ নেয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং খাড়িয়া ভাষা সংরক্ষণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

Link copied!