বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় জেলেদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জেলে আহত এবং ২ জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গভীর রাতে পাথরঘাটা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। জেলে ও ট্রলার মালিকের বাড়ি পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায়।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- চরদুয়ানী ইউনিয়নের আজিজ বয়াতির ছেলে মো. হিরু বয়াতি ও বেলায়েত গাজীর ছেলে জসিম গাজী। ঘটনার সময় প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় অপর ট্রলারের জেলেরা।
জানা যায়, উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের মালিকানা এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেরা বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করছিল। ঠিক এমন সময় অপর একটি ট্রলার জালে পেঁচিয়ে যায়। এ নিয়ে এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলেদের ওপর অপর ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে অপর ট্রলারের (নামবিহীন) আরও দুটি ট্রলারসহ জেলেদের ডেকে এনে মনির আকনের ট্রলারের জেলেদের ওপর ট্রলারের শিকল নিক্ষেপ করে এতে ৪ জেলে আহত হয় এবং ২ জেলে ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, মাছ ধরার সময় মনির আকনের মালিকানা ট্রলারের জালে পেঁচানো নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিনটি ট্রলারের জেলেদের ছেলেরা মনির আকনের ট্রলারের হামলা করে। এতে ৪ জন আহত হয় এবং ২ জন নিখোঁজ হয়। আহতদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধান মেলেনি।
ট্রলারের মালিক ও মাঝি মনির আকন বলেন, আমরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এফবি মুন্না নামের একটি ট্রলিং আমাদের জালের ওপর ওঠে যায়। বাধা দিলে হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ট্রলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও তিনটি ট্রলিং আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা ট্রলারে ওঠে শিকল নিক্ষেপ করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
মনিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা ট্রলারের জালও কেটে নিয়ে যায়।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত রয়েছে; তবে ঝুঁকিমুক্ত।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন