চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকায় প্রকৃত উপকারভোগী অসহায় ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পৌর এলাকার অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি ওই চাল পেয়েছেন, এমন অভিযোগে এলাকায় সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পৌরসভার ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
চাল বিতরণের সময় দেখা যায়, তালিকায় নাম না থাকায় অনেক অসহায় মানুষ চাল পাননি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকে বয়োবৃদ্ধ, কেউ বিধবা, কেউ স্বামী-পরিত্যক্তা। আবার কেউ এমন আছেন, যারা চলাফেরা করতে পারেন না বা ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনযাপন করেন। অথচ তারাই এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাল নিতে এসে তালিকায় নাম না পেয়ে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসহায় নারী চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে যান। তাদেরই একজন ইসারন নেছা নামে এক বৃদ্ধা বলেন, ‘আমার কেউ নেই। এখন পর্যন্ত তেল তো দূরের কথা, চালের কার্ডও পাইনি।’ এ কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চাল বিতরণের সময় অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এক নারী একাই ১৭ জনের টোকেন বা কার্ড নিয়ে ভিজিএফের চাল নিতে আসেন। বিষয়টি দর্শনা পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলমের নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টোকেনগুলো জব্দ করেন এবং টোকেনের প্রকৃত মালিকদের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া অভিযোগ উঠেছে, কিছু সচ্ছল ব্যক্তি এই ভিজিএফের চাল পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে চাকরি করেন এমন কয়েকজন এবং বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করেন এমন কয়েকজনও এই চাল পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের নাম তালিকায় না থাকায় তারা চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
দর্শনা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের জন্য কার্ডপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দর্শনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৩ হাজার ৮৫ জন উপকারভোগীর জন্য ৩০ হাজার ৮৫০ কেজি চাল বরাদ্দ রয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩ হাজার ৩৫০ কেজি, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯০ জনের জন্য ৩ হাজার ৯০০ কেজি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৫ জনের জন্য ৩ হাজার ৩৫০ কেজি, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩৩ জনের জন্য ৩ হাজার ৩৩০ কেজি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩ হাজার ৪২০ কেজি, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৪২ জনের জন্য ৩ হাজার ৪২০ কেজি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮৩ জনের জন্য ২ হাজার ৮৩০ কেজি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৯৭ জনের জন্য ৩ হাজার ৯৭০ কেজি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩২৮ জনের জন্য ৩ হাজার ২৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলম বলেন, ‘চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে এক নারী একাই ১৭ জনের কার্ড নিয়ে চাল নিতে এসেছিলেন। পরে কার্ডগুলো জব্দ করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
জানতে চাইলে দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌরসভার প্রশাসক শাহিন আলম বলেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অসহায় দুস্থদের তালিকা করা হয়েছে। পূর্বের করা তালিকা থেকেও কিছু নাম নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনে পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে চাল বিতরণ হয়েছে। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন