নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নদীপথের দ্রুতগামী স্পিডবোট চলাচল জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাট রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম জ্বালানী সংকট তৈরি করে হাতিয়া উপজেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে রেখেছেন। এতে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাট পর্যন্ত এই রুটটি হাতিয়ার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন শত শত যাত্রী দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পিডবোটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হঠাৎ করে গত দুই দিন ধরে সব স্পিডবোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেককে বিকল্প ধীরগতির নৌযান ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়েছে।
নলচিরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, জরুরি কাজে প্রায় প্রতিদিনই এই রুটে যাতায়াত করতে হয় জেলা শহর মাইজদীতে। কিন্তু স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়েও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নৌযানই মানুষের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম। যদি জ্বালানি সংকটের কারণে স্পিডবোট বন্ধ থাকে, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
স্পিডবোট চালক মনির হোসেন বলেন, ঈদ সামনে থাকলেও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় কয়েকদিন ধরে কোনো আয়-রোজগার নেই। সারাবছর কষ্ট করে কাজ করি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। এখন আয় বন্ধ থাকায় পরিবারের জন্য বাজার করা তো দূরের কথা, ছেলেমেয়েদের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও কিনতে পারছি না।
অল্প বেতনে কাজ করে আমরা সংসার চালাই। এখন জ্বালানি সংকটে স্পিডবোট বন্ধ থাকায় আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। আমার পুরো পরিবারই আমার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল।
হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী এস এম চৌধুরী ট্রেডার্সের মালিক জাফর চৌধুরী দিনু জানান, প্রায় ৮-৯ দিন আগে ডিপো থেকে তেল আনার জন্য গাড়ি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যায়নি।
পরে জানানো হয়, হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত অনুমতি ছাড়া তেল দেওয়া যাবে না। নিয়ম মেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেও ডিপোতে জমা দিয়েছি। কিন্তু এতকিছুর পরও এখন পর্যন্ত এক ফোঁটা তেলও দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে হাতিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ব্যাহত করছে। বর্তমানে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, পুরো হাতিয়া অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযান বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন