কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঈদকে সামনে রেখে মাদকের রমরমা ব্যবসা বেড়েছে। চাহিদাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরাও হয়ে পড়েছেন বেপরোয়া।
মাদক নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত সবসময়ই মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় মাদক চোরাচালান ও ব্যবসা চলে এমন অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও।
সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদাহ বাজারপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলছে। স্থানীয় স্বপন নামে একজন মাদক ব্যবসায়ী এতে জড়িত।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হয়।
ধর্মদাহ গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিন মেকারের ছেলে স্বপন (৪০) ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকার মাদকের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও তিনি সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকেন।
ভারত থেকে পাচার করে আনা ফেনসিডিল, মদ, ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক তিনি কুষ্টিয়া শহর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, স্বপনের মাদকের কারবার চলে ধর্মদাহ বাজারে তার গ্যারেজ নামে একটি স্থাপনায়। যদিও ‘গ্যারেজ’ নামে এটি পরিচিত, সেখানে কোনো মোটরসাইকেল বা ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের মেরামতের কাজ হয় না। ওই স্থাপনায় দিনরাত সন্দেহজনক মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। অধিকাংশই মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ভারতের মুর্শিদাবাদ এলাকার আশরাফ আলীর মাধ্যমে মাদক বাংলাদেশে ধর্মদাহ সীমান্ত দিয়ে আসে।
এরপর একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জাহাঙ্গীর (৪০), আলী হোসেন মালিথার ছেলে রাজু মালিথা (৪২) ও প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সোহান (৪২) এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিট অফিসার ও দৌলতপুর থানার এসআই ফিরোজ অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্বপনের মাদক ব্যবসায় সহায়তা দেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এটি অস্বীকার করা হয়েছে। স্বপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও চার্জশিট রয়েছে। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করলেও পুনরায় একই ব্যবসায় ফিরে আসেন।
সীমান্ত এলাকায় বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে, প্রায় দিনই মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হচ্ছে। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা না পারায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অভিযানের ব্যাপারে ক্ষোভ রয়েছে।
এসআই ফিরোজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ধর্মদাহ বাজারে স্বপন মেকারের গ্যারেজ থাকলেও সেখানে কোনো মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ হয় না। তিনি স্বপনের সঙ্গে কোনো সখ্যতা থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন।
দৌলতপুর থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, স্বপনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সোমবার দুপুরে খাল খনন কর্মসূচীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া-১ আসনের এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা উল্লেখ করেন, দৌলতপুর উপজেলার ৪২ কিমি সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র আসে। তিনি সীমান্তে বিজিবি ক্যাম্প বাড়ানোর দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন