পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
ঈদের দিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এই বনাঞ্চল। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পর্যটকরা ভিড় করছেন লাউয়াছড়ার সবুজ অরণ্যে।
ঘুরতে যাওয়া পর্যটক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, এখানকার প্রকৃতি খুবই ভালো লাগে। শুধু এই জায়গা না চা বাগানসহ মনিপুরী পাড়া দেখেছি খুব ভালো লেগেছে। মন চাচ্ছে না চলে যেতে। তারপরও যেতে হচ্ছে। সিলেট যাব জাফলং ও সাদা পাথর দেখতে। আবার যেকোনো দিন ছুটি পেলে চলে আসব।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ জনক দেববর্মা জানান, ‘ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বনের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।’
লাউয়াছড়ার পাশাপাশি কমলগঞ্জের মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ,হামহাম, মনিপুরীপাড়া, খাসিয়াপুঞ্জি ও চা বাগানগুলোতেও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ফলে আশপাশের রিসোর্ট, হোটেল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভালো বিক্রির আশা করছেন।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনের নীরবতা বজায় রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জন করার জন্য বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো। লাউয়াছড়া টিকেট কালেক্টর শাহিন আহমদ জানান, ‘সকাল থেকেই বনে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল। আমরা পর্যটকদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে।'
শনিবার বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটের সময় তিনি জানান, প্রায় ১ হাজার ৩ শ পর্যটক বনের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। যা সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো।
ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের ওসি মো.কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আমাদের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়েই সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, থানা-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন