ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ড্রাগন ফল চাষে এবার ব্যাপক লাভের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষি অফিসের তথ্য ও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত তিন বছরে উপজেলায় ড্রাগন চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।
২০২৩–২৪ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ড্রাগন চাষের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ একর, যা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ একর ছাড়িয়েছে।
প্রচলিত চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি কৃষকরা এখন রাতে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর অভিনব কৌশল প্রয়োগ করছেন।
কৃষকরা জানান, রাতে কৃত্রিম আলো ব্যবহারের ফলে বাগানের তাপমাত্রা ও আলোর সামঞ্জস্য বজায় থাকে। এতে ফুল ঝরার হার কমার পাশাপাশি ফল দ্রুত পরিপক্ব হয়।
জানা যায়, পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ফুল থেকে ফল হওয়ার হার প্রায় ১৫–২০% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ফুল ঝরা কমেছে প্রায় ৩০%। এর ফলে প্রতিটি গাছে ফলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জানান, ড্রাগন চাষে আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রভাব নিয়ে বর্তমানে নিবিড় গবেষণা চলছে। রাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার প্রাথমিক পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল দিলেও, বড় পরিসরে এর কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
বাজার জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার পাইকারি বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি কেজির দাম ঋতু অনুযায়ী ৩০০–৪৫০ টাকা হলেও গড়ে ৪০০ টাকা ধরে হিসাব করলে, এক একর জমি থেকে প্রায় ১,২০০ কেজি ফল সংগ্রহে আয় হতে পারে ৪৮০,০০০ টাকা। যেখানে চাষের খরচ আনুমানিক ৬৫,০০০ টাকা, ফলে কৃষকের মোট লাভ প্রায় ৪,০০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
কৃষকদের মতে, সরকারিভাবে সেচ, আলোকসজ্জা ও আধুনিক প্রযুক্তির আরও সহায়তা পাওয়া গেলে ড্রাগন চাষ এ অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র বদলে দিতে পারে।

