রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাস ডুবির ঘটনায় নিজের জীবন বাঁচাতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রী খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে কীভাবে নদীর পানিতে ছিটকে পড়লেন, তা তিনি বলতে পারেন না। নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়, যা আর ফেরত পাননি।
তবে মোবাইল হারালেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি খোকসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠেন।
খাইরুল ইসলাম জানান, তার সিট নম্বর ছিল বি-২। পাশের সিটের যাত্রী, সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক, খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে তার পাশে বসেন। বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ওই যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার ফিরে এসে সিটে বসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান।
এ সময় বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ একটি ঝাঁকুনি লাগে। এতে তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীর পানিতে পড়ে যান। তার দেখা মতে, কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হন। নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার পরই এক উদ্ধারকারী তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়।
খাইরুল আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পাশের আসনের ওই যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তার ভাষ্যমতে, অধিকাংশ নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল এবং অন্তত ৪০ জন নারী ও শিশু বাসের ভেতরে আটকা পড়ে যায়।
খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলে মেশিনম্যান হিসেবে কর্মরত। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন এবং দুর্ঘটনার দিন কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও বি-২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ড থেকে উঠেছিলেন। তাদের একজন জীবিত ফিরে এসেছেন। এ ছাড়া একজন অজ্ঞাতপরিচয়ের বৃদ্ধ যাত্রীও ওই স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠেছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন