নানা আলোচনা-সমালোচনার পর মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের ইজারা পেয়েছে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটায় যাচাই-বাছাই শেষে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে প্রতিষ্ঠানটিকে বালুমহালের ইজারাদার হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য লেছড়াগঞ্জ বালুমহালের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৭ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮০ টাকা। প্রথম দফায় ১৪টি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়ে মাত্র তিনটি। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল- খান এন্টারপ্রাইজ, সজীব করপোরেশন এবং জমিদার এন্টারপ্রাইজ। সে সময় খান এন্টারপ্রাইজ দর প্রস্তাব দেয় ২ কোটি ২০ লাখ টাকা, সজীব করপোরেশন ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং জমিদার এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
সরকারি মূল্যের তুলনায় দর অনেক কম হওয়ায় প্রথম দফার দরপত্র বাতিল করে পুনরায় আহ্বান করা হয়। দ্বিতীয় দফায়ও একই তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এ দফায় খান এন্টারপ্রাইজ প্রস্তাব দেয় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সজীব করপোরেশন ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং জমিদার এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবুও দর কম থাকায় দ্বিতীয় দফার দরপত্রও বাতিল করা হয়।
তৃতীয় দফায় সাতটি সিডিউল বিক্রি হলেও আগের তিনটি প্রতিষ্ঠানই দরপত্র জমা দেয়। সর্বশেষ দফায় খান এন্টারপ্রাইজ প্রস্তাব দেয় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সজীব করপোরেশন ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং জমিদার এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
তৃতীয় দফাতেও প্রস্তাবিত দর সরকারি মূল্যের চেয়ে কম হলেও সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে খান এন্টারপ্রাইজকে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকায় প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়, যা নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় ৫৪.১৭ শতাংশ কম।
এই বালুমহালকে ঘিরে শুরু থেকেই সমঝোতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রভাব খাটিয়ে কম দামে ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করছে- এমন অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
এর আগে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তৃতীয় দফাতেও দর কম এলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তৃতীয় দফার দরপত্র মূল্যায়ন সভায় তা করা হয়নি। বরং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রণালয়ে না পাঠিয়ে খান এন্টারপ্রাইজকে মনোনীত করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সম্ভাব্য অন্যান্য দরদাতাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সীমিত করা হয়েছে। ফলে কম দামে বালুমহালটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সিন্ডিকেটের অভিযোগ প্রসঙ্গে খান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বিল্লাল খান বলেন, ‘যারা সিডিউল কিনেও জমা দেননি, তাদের সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। আর যারা দরপত্র জমা দিয়েছেন, তাদেরও আমি চিনি না।’
তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে তাদের সবাইকে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে।
তবে এরপরই এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার নানা রকম চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে বিভিন্ন নেতাকর্মী ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমেও তদবির করার চেষ্টা করেন ইজারাদার বিল্লাল খান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘তৃতীয় দফাতেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দর পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী আইন মেনে সর্বোচ্চ দরদাতাকে মনোনীত করা হয়েছে। পরিপত্র না থাকলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতো। যেহেতু আগে থেকেই পরিপত্র পাওয়া গেছে, তাই এতে কোনো আইনগত বাধা নেই।’


-20260408205912.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন