লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে আলী হোসেন (৪১) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ১৭ ঘণ্টা পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে। এর আগে ওই সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নিহত আলী হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি পূর্ব পানিয়ারটারী গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
বিজিবি জানায়, ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলারের পাশে প্রায় ২০ মিনিটব্যাপী বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির ১০ সদস্যের দলের নেতৃত্ব দেন ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফের ২০ সদস্যের দলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট মিস্টার সৌরভ।
বিজিবি আরও জানায়, বুধবার রাত ৩টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন ৭-৮ জন বাংলাদেশি। তারা গরু আনতে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান করছিলেন। এ সময় টহলরত ভারতের ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সাতগ্রাম ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে পড়ে যান এবং অন্যরা পালিয়ে যান। পরে বিএসএফ সদস্যরা গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আলী হোসেন কৃষিকাজ করত। অন্যের প্ররোচনায় পড়ে সে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছিল গরু আনার জন্য। যারা নিয়মিত চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তারা পালিয়ে এসেছে; কিন্তু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে আমার ছোট ভাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ আমাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছে। রাতেই স্থানীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে।’
পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতের মাথাভাঙা থানা পুলিশ পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, ‘পতাকা বৈঠকে গুলি করে বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। বিএসএফ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কমান্ড্যান্ট জানান, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতরা অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিএসএফ সদস্যকে আঘাত করে। আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ সদস্য গুলি চালায়। এতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন