নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ১৩ বছর বয়সি মাদ্রাসাছাত্র ইমরান হোসেন। বর্তমানে সে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে বিসিক শিল্পাঞ্চলের কাছে হরিহর পাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ইমরান স্থানীয় হযরত সুমাইয়া (রা.) মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকালে মাদ্রাসায় গিয়েছিল সে। কিন্তু পড়া শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ করেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায়।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এলাকায় পূর্বে তেমন উত্তেজনা না থাকলেও হঠাৎ ঝুট ব্যবসা নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আতঙ্কিত হয়ে ইমরান একটি গলিতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গলির মুখে আসতেই একটি গুলি তার পেটের বাম পাশে বিদ্ধ হয়। এতে সে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। একই ঘটনায় আরও দুজন আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত ইমরানকে উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চবটির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ইমরানের বড় বোন ইশা মনি জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা আগে থেকেই একাধিক ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা রাখতে বলেন। বিকেলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলি বের করা সম্ভব হলেও এখনো তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। আমার ভাই এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে ইমরানের পরিবার। তার বাবা আসমাউল হোসেন একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। তিন ভাইবোনের মধ্যে ইমরান দ্বিতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়।
পরিবারের আশা ছিল, ইমরান একদিন হাফেজ হয়ে ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। কিন্তু এই আকস্মিক ঘটনায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই এলাকায় ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’-এর ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীদের সঙ্গে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ থেকে গুলি ছোড়া হয় এবং হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, কে বা কারা গুলি চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন