ঠাকুরগাঁওয়ের রেজা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহে অনিয়মকে কেন্দ্র করে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা প্রায় দুই ঘণ্টা ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার মেসার্স রেজা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও একাধিক ব্যক্তি জানান, আগের দিন রাত থেকেই তেল নেওয়ার জন্য সিরিয়ালে অপেক্ষা করছিলেন তারা। কিন্তু পাম্প কর্তৃপক্ষ নিয়ম উপেক্ষা করে সিরিয়ালবিহীন মোটরসাইকেল এবং পাম্প মালিকের লোকজনকে বড় বড় জার্কিনে পেট্রোল সরবরাহ করছিল। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে গ্রাহকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সুরুজ আলী নামে একজন আহত হন।
এ ঘটনার হামলার শিকার সুরুজ আলীসহ ভুক্তভোগীরা ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও অবরোধ চলাকালে পাম্পপক্ষের লোকজন আবারও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত সুরুজ আলী জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু পাম্প কর্তৃপক্ষ লাইনে দাঁড়ানো গ্রাহকদের তেল না দিয়ে অন্যদের তেল দিচ্ছিল। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে পাম্পের কর্মচারী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে। এমনকি স্ক্রুড্রাইভার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত তেলগ্রহণেচ্ছু লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে রাস্তার উভয় পাশে অসংখ্য গাড়ি আটকে পড়ে এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
এদিকে তেলগ্রহণেচ্ছু লোকজন জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়া এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর সুষ্ঠু সমাধান না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
মেসার্স রেজা ফিলিং স্টেশনের মালিক তাসমিমুর রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের পাম্পে কোনো সিন্ডিকেট নেই। এখানে দুপক্ষেরই ভুল আছে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলে ইট হাতে নিয়ে মারতে আসছিল। এটি দেখে স্থানীয় ছেলেরা তাকে মারধর করে পাম্প থেকে বের করে দেয়। সীমিত সরবরাহের কারণে সবাইকে একসঙ্গে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই সুমন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

-20260418211248.webp)
-20260418205458.webp)
সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন