কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তেলের সংকট এখন চরমে, আর এই সংকটকে ঘিরে রয়েছে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট বাণিজ্য। ভেড়ামারায় ৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এগুলো নিয়মিত তেল সরবরাহ করছে না। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না জ্বালানি তেল। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বলা হচ্ছে পাম্প তেলশূন্য। আবার কালোবাজারে তেলের দামে আগুন। জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটে পিষ্ট ভেড়ামারার জনগণ।
সরেজমিন দেখা যায়, পাম্পে তেল নেই। অথচ অধিক মুনাফার লোভে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, যা খোলা বাজারে লিটার প্রতি ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেড়ামারার বিভিন্ন বাজারে গোপনে এই তেল বিক্রির প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়াও রাজনৈতিক, সাংবাদিক পরিচয়ে রাতের আঁধারে পাম্প থেকে ড্রামে তেল সরবরাহ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভেড়ামারা শহরটি দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র। কৃষিনির্ভর এখানের জনগণ। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হঠাৎ করে সেই জ্বালানি এখন দুর্লভ। ২০০ টাকার তেল নিতে তীব্র রোদে ৬-৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকে শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। ফিলিং স্টেশনগুলো নিয়মিত তেল সরবরাহ করছে না। ২-৩ দিন বন্ধ রেখে হঠাৎ একদিন তেল বিক্রি করছে। আবার এক পাম্প খোলা থাকলে অন্যগুলো বন্ধ থাকে, যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ ছাড়াও রাতের আঁধারে কালোবাজারি ব্যবসায়ীদের কাছে তেল বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে ভেড়ামারার ৫টি ফিলিং স্টেশন—এম এ খালেক, মতিয়া, মিজান, সাহারা ও দফাদার ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে মার্কেটিং বিভাগের লোকজন। তাদের অধিকাংশ সময় মোটরবাইকে মার্কেটিং করতে হয়। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটে তাদের মার্কেটিং চরম সংকটে।
কাজী কোম্পানির কর্মকর্তা মাসুদ জানান, তেলের অভাবে নিয়মিত মার্কেটিং করতে পারছি না। দীর্ঘ লাইনে থেকেও অনেক সময় তেল না পেয়ে গাড়ি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। চাকরিতে অনুপস্থিত থাকায় কোম্পানিগুলো বেতন কর্তন করছে।
ব্রাইট ফিউচার স্কুলের শিক্ষক জহুরুল জানান, জ্বালানি তেলের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও দৈনন্দিন জীবন— সবকিছুতেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। উপজেলা প্রশাসন জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা লাইনের কথা বললেও মানা হচ্ছে না কোনো পাম্পে।
পল্লি চিকিৎসক রানা জানান, পার্শ্ববর্তী উপজেলা ছাড়াও দূর-দূরান্তের এলাকার লোকজন এসে পাম্পে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। গাড়িতে তেল না থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় স্বেচ্ছাসেবীরা পরিচিত ব্যক্তিদের লাইনে অনুপ্রবেশ করাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানান, সরকারিভাবে তেল সরবরাহ কম থাকায় আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে| তেল সরবরাহ বৃদ্ধি হলে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা জরুরি সেবাকারীদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করতে বলেছি। কালোবাজারি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ কঠোর নজরদারি রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন