× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

পাননি রাষ্ট্রের সহায়তা, জীবনযুদ্ধে একাই লড়ছেন যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বেগম।

যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বেগম।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও অবহেলা আর বঞ্চনার বেড়াজাল ভাঙতে পারেননি যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বেগম। হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের এই নারী গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগমের কন্যা। তিনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালেও সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

জন্মপরিচয়ের কারণে শৈশব থেকেই সমাজের অবহেলা, ঘৃণা ও বৈষম্যের শিকার হন শামসুন্নাহার। যুদ্ধশিশু পরিচয়ের কারণে কেউ তাকে বিয়ে করেনি। ফলে নিঃসঙ্গতা, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অপমান তার জীবনে নেমে এসেছে দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপ হয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মনোদৈহিক সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি গলায় জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও আর্থিক সংকটে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তার জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায় ঘটে গত বছরের ডিসেম্বরে। পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক চাপের মুখে সৎ ভাইয়ের মারধরের শিকার হয়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত হন তিনি। 

এরপর থেকে মনতলা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটি মন্দিরের পাশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক সময় অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। শামসুন্নাহার বেগম একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে সহায়তার আবেদন করলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ পাননি।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকেও কোনো সহায়তা মেলেনি। 

শামসুন্নাহার বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। বাড়ি ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে কিছুই পাইনি। আমি এখন ঘরহীন। আমার জীবনটা কেন এমন হলো- তা সবাই জানে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে, কিন্তু শামসুন্নাহারের কষ্ট শেষ হয়নি। তিনি অনাহারে ও বিনা চিকিৎসায় দিন কাটাচ্ছেন- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শামসুন্নাহারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয়, সামাজিক পুনর্বাসন, আইনগত সহায়তা এবং আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Link copied!