× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ, তবুও পদ ছাড়েননি প্রধান শিক্ষক

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে উঠলেও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তাকে অপসারণ না করায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ১০ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী।

অভিযোগে বলা হয়, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির প্রায় ২৭ বিঘা জমি মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য অধিগ্রহণ করা হলে সরকার ৯৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। কিন্তু এই অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বগুড়া এলএ শাখা থেকে বিদ্যালয়ের হিসাবে অর্থ জমা হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কয়েক দফায় ৩১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক দোকানঘর থেকে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ভাড়া আদায়ের কথা থাকলেও সেই অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ দোকান বর্তমানে অন্যদের দখলে থাকায় ভাড়া আদায় সম্ভব হচ্ছে না।’ উত্তোলিত অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. দিলফুজার রহমান রিপন বলেন, ‘অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।’

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। খেলার মাঠ সংস্কারের নামে বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাঠের একটি অংশ প্লট আকারে বণ্টন করা হয়েছে। উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বলেন, ‘আয়-ব্যয়ের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। পূর্বের বিষয়গুলো তদন্তাধীন রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ নিয়েও আগে বিতর্ক ছিল। ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। নতুন করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

Link copied!