আদালত অবমাননার অভিযোগে বগুড়ার জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও নন্দীগ্রামের এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছেন যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ এর বিচারক শামিমা খাতুন।
মঙ্গলবার (৫ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেন বগুড়া জজকোর্টের আইনজীবী এম. এ. ছোবহান। নন্দীগ্রাম উপজেলার কোষাশ মৌজার ৫.৯৯ একর বিষলাল পুকুর সংস্কারে বাধা ও সাইনবোর্ডকে কেন্দ্র করে একটি যৌথ মামলা করেছেন মনছের আলী সরদারসহ ১০ জন।
বিবরণে তারা উল্লেখ করেন, পুকুর-সংক্রান্ত মামলায় আদালতের অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিবাদীরা পুকুরপাড়ে বেআইনিভাবে সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। সোমবার বাদীপক্ষের দরখাস্ত আমলে নিয়ে প্রশাসনের তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেন আদালতের বিচারক।
সেরেস্তাদার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, আগামী ২৪ মে সকাল ৯টায় আদালতে স্বয়ং অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে দরখাস্তের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাবেন। অন্যথায় এক তরফা শুনানি ও বিচার হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার ‘বিষলাল’ নামের পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করছে বাদীপক্ষ। তারা হলেন- মনছের আলী সরদার, মোবারক হোসেন, মোসলেম উদ্দিন, মমতাজ বেগম, মোমেনা খাতুন, মাবিয়া খাতুন, ছলিম উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, মো. বায়েজিদ ও মো. ওয়াজেদ। সম্পত্তিতে তাদের বসতবাড়ি রয়েছে এবং তারা পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
সম্পত্তিটি ভুলক্রমে ১/১ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হলে জেলা প্রশাসকসহ সাতজনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা নং ৯৫/২০২০ দায়ের করা হয়। বগুড়ার যুগ্ম জেলা জজ-২ আদালত ২০২১ সালের ৯ মে মামলার নিষেধাজ্ঞা আবেদনের শুনানি করে। সরকার পক্ষের সময়ের প্রার্থনা নামঞ্জুর করে জেলা প্রশাসকসহ সাতজন বিবাদীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন বিচারক।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল আদালতের আদেশ অবমাননা করে সরকারি সম্পত্তি দাবি করে পুকুরপাড়ে সাইনবোর্ড দেয় বিবাদীরা। পরে ২৯ এপ্রিল আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা করেন বাদীপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার বলেন, কোষাশ মৌজার বিষলাল পুকুরে সরকার পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলার বিষয়টি শুনেছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন