ভুট্টা আবাদে প্রতি বছরই দেশের শীর্ষে থাকে সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। এ বছর জেলার ৫ উপজেলায় ভুট্টার ভালো ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ভুট্টা নিয়ে হতাশায় চাষিরা। অনেক কৃষক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করে ভালো ফলন পেলেও দেখছে না লাভের মুখ।
তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর চরসহ এই জেলার মাটি ও আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ভুট্টা আবাদ বেশি হয় বলে কৃষকেরা ভুট্টা চাষে বেশ আগ্রহী। বিগত বছরগুলোতে ভুট্টার দাম ভালো পাওয়ায় এ বছরও জেলায় অধিকাংশ কৃষক ভুট্টা চাষ করেছেন।
আগাম ভুট্টা তোলা ও মাড়াই শুরু হলেও বাজারের প্রতিমণ ১১০০ থেকে ১১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন না। চাষাবাদের শুরুতেই সার, বীজ সংকটের কারণে অধিক মূল্যে কিনে চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে বাজারের এমন দামে হতাশ কৃষক।
কৃষকেরা বলছেন, বেশি মূল্যের সার-বীজ কীটনাশক কিনে এখন ভুট্টা বিক্রি করে সেই টাকাই উঠছে না। তারা ভুট্টার ন্যায্যমূল্য যাতে পান সে বিষয়ে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
হাতীবান্ধার তিস্তার চর সিন্দুর্না এলাকার কৃষক ছকমল হোসেন জানান, এ বছর তিস্তার বালুচরে ১৫০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। তিনি যেখানে গত বছর চাষ করেছিলেন মাত্র ৯০ শতকে। বীজ, সার ও শ্রমিক মিলিয়ে খরচ হবে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। প্রতি শতক জমি থেকে ৫০ থেকে ৫৫ কেজি ভুট্টা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। প্রতিমণ ভুট্টা ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হবে বলেও জানান এই কৃষক।
কালীগঞ্জের শৈলমারীর চরের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগেও এই এলাকায় তামাক চাষ হতো, এখন সেই জমিতেই ভুট্টা আবাদ করছি। এবার জানি না লাভ হবে কি না!
তবে কৃষকদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে সুদবিহীন শস্যঋণ না পাওয়ায় তাদের দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে যেতে হচ্ছে, যারা লাভের বড় অংশ নিয়ে নেন। কৃষকেরা এ জেলায় ভুট্টাজাত পণ্যের কারখানা স্থাপনের দাবিও জানাচ্ছেন।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় প্রতি বছর ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। বর্তমানে এই ভুট্টা চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় দেড় লাখ কৃষক। ভুট্টা কেনাবেচা, বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, গুদামজাতকরণসহ নানা কাজে জড়িত আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। কিন্তু একটি চক্র কারসাজি করে নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করায় চলতি মৌসুমে আশানরূপ দাম পান না কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, গত ১০ বছরে এ জেলায় ভুট্টার আবাদ নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করছে। এ বছর জেলার ৩৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, এ উপজেলায় ৩৫ শ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে তার মধ্যে চরের জমিতে ২ হাজার হেক্টর আবাদ হয়েছে। তিস্তা চরে আগাম ভুট্টা চাষাবাদ সন্তজনক লক্ষ করা যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে কৃষকরা ভুট্টার ন্যায্যমূল্য পেলে লাভবান হবেন।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মতিউল আলম বলেন, ভুট্টা এখন এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন