× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

গাজীপুরে ৫ খুনের নেপথ্যে কী?

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ভয়াবহ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক রয়েছেন পরিবারের কর্তা ফোরকান মিয়া। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে পরকীয়া, মাদকাসক্তি ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত দ্বন্দ্বকে সামনে রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতরা হলেন: গোপালগঞ্জ জেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন, তাদের তিন কন্যাসন্তান—মিম খানম, উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া, দেড় বছরের শিশু ফারিয়া এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মোল্লা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাতার প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের বাসায় বেড়াতে আসেন শ্যালক রসুল মোল্লা। রাতে প্রতিবেশীরা পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাফেরা দেখলেও শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয়।

পরে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পিবিআই, সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।

পাঁচজনকে হত্যা করে পালাচ্ছি, স্বজনদের ফোন

নিহতদের স্বজনদের দাবি, ফোরকান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে পরিবারে কলহ চলছিল। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন।

খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলা কাটা মরদেহ। বিছানার ওপর পড়ে ছিল রসুল মোল্লার নিথর দেহ। আর ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল শারমিনের মরদেহ।

নিহত শারমিনের বোনের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার রাতেও মামা রসুলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সকালে ফোরকান ফোন করে পাঁচজনকে হত্যার কথা জানিয়ে দেয়। পরে আমরা গিয়ে মরদেহগুলো দেখতে পাই।’

ফোরকানের ভায়রা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘরের দরজা ভেতর থেকে ভেড়ানো ছিল। ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখি পুরো ঘর রক্তে ভেসে গেছে। এমন দৃশ্য জীবনে কখনও দেখিনি। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে মদের বোতল, কাগজপত্র।’

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, কোকাকোলার বোতল ও রান্না করা পায়েশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজ পাওয়া যায়। সেসব কাগজ পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পারে, এর আগে ফোরকান মিয়া তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। একই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি, আর্থিক বিরোধ এবং পরকীয়াজনিত সন্দেহসহ সবগুলো বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

নেশার কারণে পাঁচ প্রাণ ঝরে গেল

একসঙ্গে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো রাউতকোনা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

প্রতিবেশীরা বলেন, নেশা একটা পরিবারকে শেষ করে দিল। ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কাপাসিয়ায় এত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড আগে দেখিনি।

তারা দ্রুত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তদন্তে নেমেছে একাধিক সংস্থা

কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের কর্তা ফোরকান মিয়াই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। মাদক, পরকীয়া ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধকে সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পিবিআই, সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তারা ফোরকানের সঙ্গে গাড়ি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বিশেষ করে শিশুদের মরদেহ দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে কাপাসিয়াজুড়ে এখন আতঙ্ক, ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত খুনিকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Link copied!