চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দুর্বৃত্তের গুলিতে দুই টমটমচালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) মাগরিবের পর উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুমিরাঘোনা ও ঘোনারমোড় এলাকায় পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুমিরাঘোনা এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে আকিব (২০) এবং চুনতি ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে কাইয়ুম শরীফ (১৯)। তারা দুজনই টমটম (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) চালক বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় কুমিরাঘোনা এলাকায় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আকিবকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। একই রাতে ঘোনারমোড় এলাকায় পৃথক আরেক ঘটনায় কাইয়ুম শরীফ গুলিবিদ্ধ হন। তাকেও উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল ফাহিম জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আকিবকে রাত ৮টার দিকে এবং কাইয়ুমকে রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিকভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহত আকিব পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, এর আগে তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে গুলি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
পুলিশ জানায়, এলাকায় তৌহিদ বাহিনী নামে একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রফিক মেম্বার গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে জানতে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন