বরগুনার আমতলীতে একটি নবনির্মিত ভবনের সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে আমতলী পৌর এলাকার একে স্কুল-সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার হলদিয়া গ্রামের আজিজ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) এবং বেতমোর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে জাফর হাওলাদার (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফের নির্মাণাধীন ভবনের সেফটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শ্রমিক জাহিদুল হাওলাদার ট্যাংকের ভেতরে নামেন। ভেতরে নামার পরপরই তিনি চিৎকার শুরু করেন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে অপর শ্রমিক জাফর হাওলাদারও ট্যাংকের ভেতরে নামলে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করে ট্যাংকের মুখ ভেঙে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান জানান, শ্রমিকরা সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে নামার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, ভবনমালিকের অসচেতনতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবু হানিফ বলেন, সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় শ্রমিকরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রথমে গ্যাসের প্রভাব কমিয়ে আনা হয়।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন