× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

টানা ৩৮ বছর মাংস মুখে নেননি গাজীপুরের এই সাংবাদিক

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশে মাংস না খাওয়ার মানুষ পাওয়া তুলনামূলকভাবে বিরল। ঈদ, বিয়ে, পারিবারিক আয়োজন কিংবা অতিথি আপ্যায়নে মাংস যেন আমাদের খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে গাজীপুরের এক সংবাদকর্মীর জীবনগল্প সেই প্রচলিত ধারণার ব্যতিক্রম।

তিনি মো. রেজাউল করিম মোল্লা, গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘি পশ্চিমপাড় এলাকার বাসিন্দা। তার দাবি, গত ৩৮ বছর ধরে তিনি কোনো ধরনের পশু বা পাখির মাংস খাননি। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ এই সময়ে তিনি মাংস স্পর্শ করতেও আগ্রহ বোধ করেননি।

রেজাউল করিম মোল্লার এই ব্যতিক্রমী অভ্যাসের শুরু ১৯৮৮ সালে, যখন তার বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। সে সময় পরিবারের সদস্যরা বিদেশ থেকে আনা দুম্বার মাংস রান্না করেছিলেন। প্রথমবার মাংস খাওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও জ্বর দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। সেই ঘটনার স্মৃতি আজও তার মনে স্পষ্টভাবে রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘ছোটবেলার ওই ঘটনার পর থেকেই মাংসের প্রতি এক ধরনের ভয় ও অনীহা তৈরি হয়। এরপর আর কখনো কোনো পশু-পাখির মাংস খেতে পারিনি। অনেকেই চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আমার কাছে তা কখনোই স্বাভাবিক মনে হয়নি।’

দীর্ঘ ৩৮ বছরে অসংখ্য সামাজিক অনুষ্ঠান, দাওয়াত, বিয়ে ও পারিবারিক আয়োজনে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে কোথাও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। অন্যরা যখন মাংসের বিভিন্ন পদ গ্রহণ করেন, তখন তিনি শাক-সবজি, ডাল, মাছসহ অন্যান্য খাবারই বেছে নেন।

তার সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছেও বিষয়টি বিস্ময়ের। দীর্ঘদিনের পরিচয়ে তারা কখনো তাকে মাংস খেতে দেখেননি বলে জানান।

স্থানীয়রা বলেন, ‘রেজাউল ভাইকে আমরা বহু বছর ধরে চিনি। পরিচয়ের পর থেকে তাকে কখনো মাংস খেতে দেখিনি। বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রম।’

পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতার কাজে ব্যস্ত থাকলেও খাদ্যাভ্যাসে তিনি সবসময় নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন। তার এই জীবনধারা নিয়ে সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রায়ই আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্যসচেতনতা ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেও রেজাউল করিম মোল্লার গল্প মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অনন্য উদাহরণ। শৈশবের একটি ঘটনার প্রভাব যে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের জীবনধারাকে প্রভাবিত করতে পারে, তার বাস্তব প্রতিফলন তিনি।

৩৮ বছর ধরে মাংসবিহীন জীবনযাপন করে তিনি হয়তো কোনো রেকর্ড গড়ার উদ্দেশ্যে এই পথ বেছে নেননি। তবে নিজের অজান্তেই তিনি হয়ে উঠেছেন এক ব্যতিক্রমী জীবনগল্পের অংশ, যা মানুষকে বিস্মিত করে এবং ভাবতে শেখায়।

Link copied!