নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরিবারকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার এবং ঘরে ফিরতে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিনুর।
এ ঘটনায় শাহিনুর বাদী হয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার রহিমাবাদ এলাকার বাছির মিয়ার স্ত্রী শাহিনুরের ছোট ভাই ইমন সওদাগরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় ৯ মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তবে পরিবারের লোকজন এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রায়পুরা উপজেলা বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে একদল লোক ইমন সওদাগরের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলায় শাহিনুরসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারধরের শিকার হন। পরে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা নগদ এবং একটি আইফোন দাবি করেন। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাধ্য হয়ে টাকা ও আইফোন দেন বলে দাবি করেন শাহিনুর।
এরপর অভিযোগ অনুযায়ী, চাপ প্রয়োগ করে ইমন সওদাগর ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ করিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবার ঘরে ফিরতে শাহিনুরের কাছে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী শাহিনুর বলেন, ‘আমার কাছে ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে ৩ লাখ টাকা ও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের আইফোন দিয়েছি। এরপরও আমাকে বাড়িতে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী বিদেশে থাকাকালীন সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় ঈদের পরের দিন থেকে তাকে বাড়ি ছাড়া করা হয় এবং কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শাহিনুর জানান, গত ৯ দিন ধরে তিনি সন্তানসহ গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয়রা ভয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের বসতভিটায় নিরাপদে ফিরে যেতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুল হক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করুক। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যেকোনো ব্যবস্থা মেনে নেব।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন