স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-২ আসনের নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় দুটি ইউনিয়ন পরিষদের নাম ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ হওয়া নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই নামগুলো প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলে গেছে।
প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলের নাম মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলের নাম মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত। অভিযোগে বলা হয়, নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নামও যথাক্রমে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’, যা কাকতালীয় নয় বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গত মাসে শিবগঞ্জ উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে মোকামতলা নামে পৃথক উপজেলা গঠন করা হয়। এর অধীনে একাধিক ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়।
গত ১১ জুন সৈয়দপুর ইউনিয়ন ভেঙে ‘সীমান্ত’ ইউনিয়ন এবং দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এ ছাড়া ময়দানহাট্টা, শিবগঞ্জ (আংশিক) ও মোকামতলা ইউনিয়নের অংশ নিয়ে ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠিত হয়। মোকামতলা ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে একটি পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
গতকাল রোববার (১৫ জুন) বগুড়ার জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে এসব বিষয়ে গেজেট জারি করা হয়।
গেজেট অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি’ নামে আরও একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে, যা প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ির নামের সঙ্গে মিলে যায়।
আইন অনুযায়ী, ইউনিয়নের নাম জেলা প্রশাসক নির্ধারণ করেন এবং কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করার বিধান নেই।
সম্পূরক বাজেট আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে মিল রেখে ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছে, যা সরকারি নীতির পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেখানে ব্যক্তিগত নাম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন, সেখানে এই ধরনের নামকরণ উদ্বেগজনক।’
প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
বিরতির পর প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম সংসদে বিষয়টির জবাব দেন। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নগুলোর নাম তার পরিবারের সদস্যদের নামে নয়, বরং স্থানীয় প্রশাসনের যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির ভিত্তিতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী হওয়ায় এর নাম ‘সীমান্ত’ রাখা হয়েছে। একইভাবে দেউলী ইউনিয়ন দূরবর্তী ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ‘দিগন্ত’ নাম দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এসব নাম তার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিললেও তা সম্পূর্ণ কাকতালীয়।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের মালিকানায় ১২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মীর সীমান্ত ফিলিং স্টেশন’ এবং ‘মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি’।
অভিযোগের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার সন্তানদের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নাম মিললেও সেখানে ‘মীর’ শব্দটি নেই, তাই এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়।
তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামের বহু প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা রয়েছে, যেমন ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ বা ‘দিগন্ত টাওয়ার’—এসবের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
গেজেট অনুযায়ী, সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন। আর দেউলী ইউনিয়নের ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন