× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

ডি-নথি প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও কর্মপদ্ধতির মৌলিক রূপান্তরের প্রতীক: বাউবি ভিসি

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) আইকিউএসি এবং প্রশাসন বিভাগের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাউবির ই-লার্নিং সেন্টারে ডি-নথি ব্যবহার ও বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার দুটি ব্যাচের দুই দিন করে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) আইকিউএসি এবং প্রশাসন বিভাগের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাউবির ই-লার্নিং সেন্টারের ডি-নথি ব্যবহার ও বাস্তবায়ন বিষয়ক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। যারা সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, তাদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।

বর্তমান বিশ্বে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার এবং স্মার্ট সেবার যুগে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় ডি-নথি কেবল একটি সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও কর্মপদ্ধতির একটি মৌলিক রূপান্তরের প্রতীক।

বাংলাদেশ সরকার একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে ই-গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, ডি-নথি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কাগজভিত্তিক দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে করেছে অধিকতর গতিশীল, কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বলেও উপাচার্য তার অভিমত ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও উপাচার্য বলেন, ডি-নথির মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে; প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়; নথির নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়; অফিস ব্যবস্থাপনায় সময়, শ্রম ও ব্যয় সাশ্রয় হয়; এবং সর্বোপরি, সেবাগ্রহীতারা দ্রুত ও মানসম্মত সেবা লাভ করেন।

প্রশিক্ষণ যে কোনো প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও নতুন কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো নয়, বরং দক্ষ, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিবান্ধব মানবসম্পদ। তাই এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত প্রশাসনিক পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে, একটি বৃহৎ ও প্রযুক্তিনির্ভর ওপেন অ্যান্ড ডিস্ট্যান্স লার্নিং (ওএলডি) প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অংশীজনদের দ্রুত, নির্ভুল এবং সময়োপযোগী সেবা প্রদানের জন্য প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডি-নথির কার্যকর প্রয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত।

উপাচার্য আরও বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা আপনারা কেবল নিজেদের কর্মক্ষেত্রেই প্রয়োগ করবেন না, বরং সহকর্মীদের মধ্যেও এর ইতিবাচক চর্চা ও ব্যবহার বিস্তারে ভূমিকা রাখবেন। একটি প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা তখনই আসে, যখন অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মপরিবেশে প্রতিফলিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল রূপান্তর কেবল প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়; এটি মানসিকতা, কর্মসংস্কৃতি এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনেরও বিষয়। পরিবর্তনকে গ্রহণ করার সক্ষমতাই একটি প্রতিষ্ঠানকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমি এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজক, প্রশিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তার পেশাগত সাফল্য ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করছি।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার রূপান্তর, যেখানে একাডেমিক উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটালাইজেশন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এই প্রশিক্ষণ প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউবির প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার্টিফিকেটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা, যা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে। নিজের দায়িত্ব ও মেধা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই প্রকৃত সফলতা। তিনি সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাউবির প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন রিসোর্স পারসন এটুআই-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম এবং এটুআই-এর জুনিয়র কনসালটেন্ট মো. সজিবুর রহমান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা।

সমাপনী বক্তব্য রাখেন কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক মো. মাসুম বিল্লাহ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসএসএস বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রশাসন বিভাগের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা শাখার যুগ্ম-পরিচালক ড. মো. শওকত আলী।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!