কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত দুটি পৃথক অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, রাত পৌনে ১টার দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শাহপরীরদ্বীপ বিওপির সদস্যরা নাফ নদীর শাহপরীরদ্বীপ জেটি থেকে প্রায় ৯০০ মিটার দক্ষিণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন নৌকার গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তিকে দুটি বস্তা নিয়ে সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা গেলে বিজিবির নৌ টহল দল তাকে আটক করে।
পরে ওই দুটি বস্তা তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জাগীর হোসেন (২৮) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জব্দকৃত ইয়াবাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে, একই দিন সকাল ১১টার দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপাড়া বিওপির সদস্যরা দায়িত্বপূর্ণ আলুগোলা পোস্টসংলগ্ন শফি চেয়ারম্যানের মাছের ঘের এলাকায় আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে জেলের ছদ্মবেশে তিনজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান গ্রহণ করে ঠেলা জালসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের থামার সংকেত দিলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে আজিজুল হক (৩৮) নামে একজনকে আটক করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
আটক ব্যক্তির ঠেলা জাল তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাকে জব্দকৃত ইয়াবাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, অবৈধ পণ্য পাচার এবং সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, নিয়মিত স্থল ও নৌ টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন